বিজ্ঞাপন
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ চাঁদপুরের সিফাতের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন করে নজির গড়েছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত। তার এই অর্জন শুধু চাঁদপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী সিফাতের গ্রামের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে। তার বাবা মো. নাসির উদ্দিন মতলব রয়মনেনসা মহিলা কলেজের শিক্ষক এবং মা কামরুন নাহার হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক।
ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন ছিল সিফাতের। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত অংশ নেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গণিত, প্রোগ্রামিং এবং ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে। ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন তিনি।
এর আগে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন সিফাত। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিফাত বলেন, এমআইটিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা কখনোই ছিল না। তবে লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে তিনি নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। সেই অধ্যবসায়ই তাকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এমআইটি প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি করে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান। এবার সেই গৌরবের তালিকায় যুক্ত হলো চাঁদপুরের মেধাবী তরুণ সিফাতের নাম।
শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে সাফল্য, একাডেমিক কৃতিত্ব এবং ধারাবাহিক দক্ষতার সমন্বয়ই সিফাতকে এই অর্জনের পথে এগিয়ে দিয়েছে। তার সাফল্য দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।