Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে ভুল অনুবাদ করে অর্থ আত্মসাৎে বাংলাদেশি দোভাষী আটক

Icon

ইতালি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে ভুল অনুবাদ করে অর্থ আত্মসাৎে বাংলাদেশি দোভাষী আটক

বিজ্ঞাপন

ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সাক্ষাৎকারে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অনুবাদ করে তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি দোভাষীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। ইতালির সিরাকুজা শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় প্রশ্ন ও উত্তরের প্রকৃত অর্থ পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ইতালির সংবাদমাধ্যম আদনক্রোনোসের প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরাকুজা শহরের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতিবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনে বাংলা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে কমিশনের কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগের দায়িত্ব ছিল তাঁর। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন করতেন।

তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দোভাষী দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়া বক্তব্য সঠিকভাবে অনুবাদ করছিলেন না। শুধু আবেদনকারীদের উত্তর নয়, কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশ্নও পরিবর্তন করে উপস্থাপন করতেন। এর ফলে সাক্ষাৎকারের প্রকৃত বক্তব্য সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ইতালিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ সময় আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গেলে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে, কেন তাঁরা দেশ ছেড়েছেন এবং কী কারণে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাইছেন, সেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আবেদনকারীর বক্তব্য সঠিকভাবে অনুবাদ না হলে তাঁর আবেদনের মূল্যায়ন প্রভাবিত হতে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই দোভাষীর বিরুদ্ধে। আবার কখনো আবেদনকারীরা যে বক্তব্য দেননি, এমন কথাও তাঁদের নামে যুক্ত করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে আবেদনকারীদের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে যেত এবং তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

তদন্তকারীদের ধারণা, সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীদের বক্তব্য সম্পর্কে কমিশনের কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করা হতো। ফলে আবেদনকারীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সিরাকুজার প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে ইতালির কারাবিনিয়েরি পুলিশের অপারেশনাল ইউনিট ঘটনাটির তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ওই দোভাষীর বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হয়।

পরে আদালত আটকাদেশ অনুমোদন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরিয়ে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি সাক্ষাৎকারে দোভাষীর ভূমিকা এবং বক্তব্যের সঠিক অনুবাদ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে অনুবাদের দায়িত্ব পালনকারী কিছু দোভাষীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগও শোনা যায়। তাঁদের অভিযোগ, চাহিদামতো অর্থ না দিলে সঠিকভাবে অনুবাদ করা হয় না। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে আটক দোভাষীর ঘটনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে আটক ব্যক্তির নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার