Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

Icon

দুবাই প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ পিএম

দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

বিজ্ঞাপন

জন্মের আগে থেকেই জীবনযুদ্ধে লড়ছে দুই বছর বয়সী শিশু আয়ান। একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুটির অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের (বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট) জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থের। এমন কঠিন সময়ে আশার আলো হয়ে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

'হোপ আমেল' (Hope Amel) নামক একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে অপরিচিত মানুষের ভালোবাসায় মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে আয়ানের চিকিৎসার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম।

আয়ানের বাবা বশির আহমাদ পাকিস্তানি এবং মা রাহমাওয়াতি বিন কার্তাহ ইন্দোনেশীয় নাগরিক। বশির দুবাইয়ের একটি গাড়ি ভাড়ার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যার মাসিক আয় ৫ হাজার দিরহামের চেয়েও কম। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি নিজের জমানো সব অর্থ খরচ করার পাশাপাশি পাকিস্তানে থাকা বসতবাড়িটিও বিক্রি করে দেন।

এরপরও যখন চিকিৎসার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন বশিরের পরিচিত এক স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন 'হোপ আমেল'-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাবি কাদোম। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি আয়ানের গল্পটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে সরাসরি হাসপাতালে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানান।

মাত্র তিন দিনের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৩ লাখ ৯০ হাজার দিরহাম উঠে আসে। এক সপ্তাহের মধ্যে মোট ১০০টিরও বেশি ব্যক্তিগত স্থানান্তরের মাধ্যমে অনুদান পৌঁছায় ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহামে। এর মধ্যে এক বেনামি দাতা একাই ২ লাখ ২ হাজার ৫৩০ দিরহাম দান করেন।

এই অপ্রত্যাশিত সহায়তায় আবেগাপ্লুত অ্যাবি বলেন, দুবাইয়ের মতো শহরে যেখানে অনেকেই পরিবার থেকে দূরে থাকেন, সেখানে অপরিচিত মানুষরাই যেন একটি পরিবারের মতো পাশে দাঁড়িয়েছে। ওই বেনামি দাতাকে তিনি ছদ্মবেশী এক দেবদূত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বর্তমানে আয়ান দুবাইয়ের আল জলিলা চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় কেমোথেরাপি নিচ্ছে। এরপর তাকে আবুধাবির বুর্জিল মেডিকেল সিটিতে স্থানান্তর করে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হবে। অনুদানের অর্থে ট্রান্সপ্লান্ট ও পরবর্তী ১০০ দিনের চিকিৎসার খরচ মিটে গেলেও, আয়ানের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধের জন্য বশিরের লড়াই এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তবে দেশ-বিদেশের অপরিচিত মানুষদের এই অভূতপূর্ব সহায়তায় আয়ানের পরিবার এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে এবং সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার