Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

২০২৬ সালে সৌদিতে ইকামা করতে কত রিয়াল খরচ হয়?

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ এএম

২০২৬ সালে সৌদিতে ইকামা করতে কত রিয়াল খরচ হয়?

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবে চাকরির জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে ইকামা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশটিতে বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের জন্য বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হয় রেসিডেন্স পারমিট বা ইকামা। তবে ইকামার খরচ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষ করে ৯ থেকে ১০ হাজার রিয়ালের অঙ্ক সামনে আসায় অনেকে মনে করেন, সৌদি গিয়ে একজন শ্রমিককে নিজের ইকামা করতে এত টাকা দিতে হয়।

বিষয়টি আসলে এমন নয়। ইকামার সরকারি ফি, ওয়ার্ক পারমিটের ফি এবং প্রযোজ্য আর্থিক ফি—এগুলো আলাদা বিষয়। আবার চাকরির জন্য সৌদি যাওয়া বিদেশি কর্মীর এসব খরচের বড় অংশ আইন অনুযায়ী নিয়োগকর্তার বহন করার কথা।

সাধারণ চাকরিজীবীর ইকামা ফি কত

সৌদি আরবে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করা বিদেশি কর্মীর ইকামা এবং ওয়ার্ক পারমিটের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হয়। শুধু ইকামা ফি হিসেবে যে অর্থ নেওয়া হয়, সেটিকে কর্মীর পুরো ইকামা-সংক্রান্ত ব্যয় বলা যাবে না।

কারণ বিদেশি কর্মীর ক্ষেত্রে ইকামার পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য আর্থিক ফি থাকতে পারে। ফলে মোট হিসাব তুলনামূলকভাবে বড় হয়।

৯ থেকে ১০ হাজার রিয়ালের হিসাবটি কী

প্রবাসী কর্মীর ক্ষেত্রে প্রচলিত হিসাবের বড় অংশ আসে ফাইন্যান্সিয়াল লেভি বা المقابل المالي থেকে। প্রতিষ্ঠানের সৌদি ও বিদেশি কর্মীর অনুপাতসহ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

এই কারণে ইকামা, ওয়ার্ক পারমিট ও প্রযোজ্য ফাইন্যান্সিয়াল লেভি একসঙ্গে ধরলে বছরে কয়েক হাজার রিয়ালের হিসাব দাঁড়াতে পারে।

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পুরো অঙ্ককে “কর্মীকে নিজের ইকামা করতে দিতে হবে” বলা যাবে না।

চাকরির জন্য সৌদি যাওয়া শ্রমিককে কি ১০ হাজার রিয়াল দিতে হয়?

না, বিষয়টি এভাবে বোঝা ঠিক নয়।

সৌদি শ্রম আইনের Article 40 অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ, ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিটের ফি এবং এগুলোর নবায়নের খরচ নিয়োগকর্তার বহন করার কথা। নিয়োগকর্তার কারণে নবায়নে বিলম্ব হয়ে জরিমানা হলে সেই জরিমানার দায়ও নিয়োগকর্তার ওপর পড়ে।

অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে একটি কোম্পানির চাকরিতে গেলে তাকে নিজের পকেট থেকে ইকামা করার জন্য ৯–১০ হাজার রিয়াল পরিশোধ করতেই হবে—এমন নিয়ম নেই।

এখানে ইকামার সরকারি ফি কত এবং বিদেশি কর্মীকে ঘিরে নিয়োগকর্তার মোট কত ফি দিতে হয়—দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি।

তাহলে ৯,১৫০ বা ১০,৩৫০ রিয়ালের হিসাব কেন আসে?

এই ধরনের হিসাব তৈরি হয় কয়েকটি আলাদা ফি একসঙ্গে ধরলে। যেমন—

অন্যান্য খরচ পরিস্থিতি অনুযায়ী মেডিকেল, স্বাস্থ্যবিমা বা অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যয়

তাই কোনো প্রতিবেদনে ৯ বা ১০ হাজার রিয়ালের হিসাব থাকলে সেটিকে “ইকামা কার্ডের দাম” হিসেবে উল্লেখ করা বিভ্রান্তিকর। বরং বলা উচিত—এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইকামা, ওয়ার্ক পারমিট ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক ফি মিলিয়ে হিসাব করা মোট ব্যয়।

বিদেশি কর্মীর জন্য নিয়োগকর্তার দায়িত্ব কী

সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর বেশ কিছু খরচের দায়িত্ব রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ

ইকামা ইস্যু ও নবায়নের ফি

ওয়ার্ক পারমিট এবং এর নবায়নের ফি

নিয়োগকর্তার কারণে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট জরিমানা

পেশা পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ফি

এক্সিট ও রি-এন্ট্রি ভিসার ফি

চাকরির সম্পর্ক শেষ হলে নিজ দেশে ফেরার টিকিট

এসব বিষয় সৌদি শ্রম আইনের Article 40-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

এমনকি HRSD-এর শ্রম আইন বাস্তবায়নসংক্রান্ত নথিতেও বিদেশি কর্মীর ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিটের ফি নিয়োগকর্তার বহনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিদেশি কর্মীর নিজের কী খরচ থাকতে পারে

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—নিয়োগকর্তার দায়িত্বে থাকা ফি এবং কর্মীর ব্যক্তিগত খরচ এক নয়।

সৌদি যাওয়ার আগে বাংলাদেশে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, মেডিকেল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যাতায়াত বা অন্য কোনো বৈধ ব্যক্তিগত খরচ থাকতে পারে। এগুলোর সবকিছুকে ইকামার ফি হিসেবে ধরা যাবে না।

তাই কোনো বাংলাদেশি সৌদি যাওয়ার আগে যদি তার কাছ থেকে ‘ইকামার টাকা’ হিসেবে বড় অঙ্ক দাবি করা হয়, তাহলে কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং তার রসিদ বা সরকারি ফি কী—তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট এক জিনিস নয়

অনেকের মধ্যে আরেকটি ভুল ধারণা হলো, ইকামা থাকলেই কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায়। সৌদি HRSD-এর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকের কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রয়োজন।

অর্থাৎ—

ইকামা = সৌদিতে বৈধভাবে বসবাসের পরিচয়পত্র/রেসিডেন্স পারমিট

ওয়ার্ক পারমিট = বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি

দুটির সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও এগুলো একই ফি বা একই নথি নয়।

গৃহকর্মীর ইকামার হিসাব আলাদা

কোম্পানির অধীনে কাজ করা শ্রমিক এবং গৃহকর্মীর ইকামার ফি এক নয়।

সৌদি সরকারের Absher সেবার বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত গৃহকর্মীর ইকামা নবায়নের খরচ ৬০০ রিয়াল। একই সেবায় ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানো রেসিডেন্টের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যের জন্য ৫০০ রিয়াল ফি উল্লেখ রয়েছে।

তাই ‘সৌদিতে ইকামার ফি কত’—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে কর্মীর ধরন জানা প্রয়োজন।

২০২৬ সালে বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশ থেকে যারা সৌদি আরবে চাকরির উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, তাদের জন্য মূল বিষয়টি হলো—ইকামার পুরো খরচ নিজের ওপর পড়বে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কোম্পানির অধীনে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকের ক্ষেত্রে সৌদি শ্রম আইন নিয়োগকর্তার ওপর ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিটের ফি বহনের দায়িত্ব দিয়েছে।

তাই কোনো নিয়োগকর্তা বা মধ্যস্থতাকারী যদি কর্মীর কাছ থেকে ইকামার নামে বড় অঙ্ক দাবি করেন, তাহলে সেটি কোন ফি, কার আইনগত দায়িত্ব এবং সরকারি রসিদ আছে কি না—এসব যাচাই করা উচিত।

এক নজরে

গৃহকর্মী ও পরিবারের সদস্যের ফি Absher-এর সরকারি সেবার তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালে সৌদি আরবে চাকরির জন্য যাওয়া একজন বাংলাদেশির ক্ষেত্রে “ইকামা করতে ৯–১০ হাজার রিয়াল লাগে”—এভাবে সরাসরি বলা সঠিক নয়। ইকামার ফি, ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রযোজ্য আর্থিক ফি আলাদা বিষয়। আবার সৌদি শ্রম আইনের Article 40 অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর নিয়োগ, ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিটের নির্ধারিত খরচ নিয়োগকর্তার বহন করার কথা।

তাই বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন খরচ ইকামার, কোনটি ওয়ার্ক পারমিটের, কোনটি অন্য প্রক্রিয়ার এবং কোন খরচ আইন অনুযায়ী নিয়োগকর্তার—এসব আলাদা করে বোঝা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার