Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই সরকার বিনা শর্তে টাকা, বাড়ি ও চিকিৎসার সব খরচ বহন করে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ২০২৬ সালে সিনিয়রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, সম্পূরক নিরাপত্তা আয়, মেডিকেড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং কর সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা, আয়, কাজের ইতিহাস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে।

প্রথম বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তা অবসর ভাতা। যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকেই এই সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ৬২ বছর বয়সে নিলে মাসিক ভাতার পরিমাণ কমে যায়। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় যোগ হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক ভাতা প্রায় ৫৭ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই সুবিধার জন্য সাধারণত কাজ করে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০২৬ সালে একটি ক্রেডিট পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের অবসর ভাতার জন্য ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসাল অনুযায়ী ৬৬ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাই ৬৫ বছর হলেই সবাই একই পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাবেন, এমন নয়।

দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো মেডিকেয়ার। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ারের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ কর্মজীবনে যথেষ্ট মেডিকেয়ার কর দেওয়ার কারণে হাসপাতালভিত্তিক পার্ট এ-এর জন্য মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। তবে পার্ট বি বিনামূল্যে নয়। ২০২৬ সালে এর স্ট্যান্ডার্ড Part B মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক কর্তনযোগ্য অর্থ ২৮৩ ডলার। আয় বেশি হলে পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে।

মেডিকেয়ারের পার্ট এ মূলত হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট রোগী ভর্তি চিকিৎসা কভার করে। পার্ট বি চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কভার করে এবং পার্ট ডি প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে সহায়তা করে। কম আয়ের মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যায় না।

তৃতীয় সুবিধা হলো সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্ধ বা প্রতিবন্ধী এবং খুব কম আয় ও সীমিত সম্পদের মানুষ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে ফেডারেল পর্যায়ে এসএসআই-এর সর্বোচ্চ মাসিক হার একজনের জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম হতে পারে।

চতুর্থ সুবিধা হলো মেডিকেড। কম আয়ের সিনিয়রদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিকেডের যোগ্যতা ও সুবিধা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও দাঁতের চিকিৎসা বা চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে পারে, আবার কোথাও নিয়ম ভিন্ন। তাই শুধু ৬৫ বছর বয়স হলেই মেডিকেড পাওয়া যায় না।

পঞ্চম সুবিধা হলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি, যা অনেকের কাছে ফুড স্ট্যাম্প নামে পরিচিত। যোগ্য নিম্ন আয়ের সিনিয়ররা খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একজনের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক এসএনএপি বরাদ্দ ২৯৮ ডলার। তবে প্রকৃত সুবিধার পরিমাণ পরিবারের আয় ও অন্যান্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে।

ষষ্ঠ সুবিধা হলো আবাসন সহায়তা। সেকশন ৮ বা হাউজিং চয়েস ভাউচার কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের পরিবার, সিনিয়র, সাবেক সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যোগ্য হতে পারেন। তবে সরকার সবার রেন্টের নির্দিষ্ট ৭০ শতাংশ দিয়ে দেয়, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক এলাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায়ও থাকতে হয়।

সপ্তম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সিনিয়রদের জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল কর ছাড়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য করদাতারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের করবর্ষে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যোগ্য হলে যৌথভাবে এই অতিরিক্ত কর ছাড় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যায়।

এ ছাড়া ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় উদ্যানের আজীবন সিনিয়র পাস রয়েছে। ২০২৬ সালে এই পাসের দাম ৮০ ডলার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফেডারেল বিনোদনমূলক এলাকায় প্রবেশ ফি ও কিছু সুবিধায় ছাড় পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়স সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলেও এটি কোনোভাবেই ‘সবকিছু ফ্রি’ পাওয়ার বয়স নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে বা কতটা খরচ কমবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ইতিহাস, আয়, সম্পদ, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর। তাই কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার