Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

প্রবাসে বছরের পর বছর সংগ্রাম, এক লটারিতেই বদলে গেল জীবন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

প্রবাসে বছরের পর বছর সংগ্রাম, এক লটারিতেই বদলে গেল জীবন

বিজ্ঞাপন

মাত্র ১৮ বছর বয়সে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় নিজ দেশ ছেড়েছিলেন। নিজের স্বপ্নের চেয়ে ছয় বোনের বিয়ে ও তাঁদের সংসার গুছিয়ে দেওয়াকেই জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করেছিলেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে সেই মানুষটিই এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) লটারিতে ৩ কোটি দিরহামের গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতে এক নতুন জীবনের সূচনা করতে যাচ্ছেন। ৫২ বছর বয়সী এই লটারি বিজয়ীর নাম সুনীল।

সুনীল জানান, ১৮ বছর বয়সে প্রায় শূন্য হাতে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। জীবনের অনেকটা সময় কেটে যায় ছয় বোনের বিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে। নিজের ভবিষ্যতের কথা আলাদাভাবে ভাবার তেমন কোনো সুযোগই তখন তাঁর ছিল না। ২০০৬ সালে বিয়ের পর কাজের খোঁজে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। মাঝে কিছুদিন নিজ দেশ ভারতে ফিরে টাইলস ঠিকাদারের কাজ করলেও আর্থিক সংকটের কারণে আবারও তাঁকে ইউএইতে ফিরতে হয়। গত দুই বছর ধরে সেখানে মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন তিনি। কাজের সুযোগ দেওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুনীল।

তবে সুনীলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল সন্তানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। তিনি ও তাঁর স্ত্রী প্রায় ১২ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় একাধিকবার চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিজেদের সঞ্চয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়ে গেলেও তাঁরা কখনোই আশা হারাননি। অবশেষে তাঁদের কোল আলো করে আসে এক কন্যাসন্তান, যা তাঁদের জীবনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসে। সুনীল জানান, জীবনের সব কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রীই ছিলেন সবচেয়ে বড় শক্তি এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি স্ত্রীর সঙ্গেই পরামর্শ করেন। সম্প্রতি এক বুধবার রাতে স্ত্রী, মেয়ে ও নিজের জন্মতারিখ মিলিয়ে ইউএই লটারির একটি টিকিট কেনেন তিনি। কাজ শেষে ফলাফল দেখে প্রথমে ভেবেছিলেন ছোট কোনো পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, তিনিই সেই ৩ কোটি দিরহামের গ্র্যান্ড প্রাইজের বিজয়ী।

বিশাল অঙ্কের এই অর্থের চেয়ে সুনীলের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। বছরের পর বছর প্রবাসে থাকায় স্ত্রী ও মেয়েকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি তিনি। এখন লটারির অর্থ দিয়ে প্রথমেই তিনি দেশে তাঁর অসমাপ্ত বাড়ির কাজ শেষ করতে চান। এরপর পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। দেশে ফিরে ছোট একটি ব্যবসা শুরুর পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে চান এই প্রবাসী। খালিজ টাইমসকে সুনীল বলেন, মানুষ তাঁকে শুধু একজন লটারি বিজয়ী হিসেবে নয়, বরং সমাজের জন্য করা ভালো কাজের মাধ্যমেই মনে রাখুক, এটাই তাঁর একমাত্র চাওয়া।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার