Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড প্রতারণায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

ভুয়া অক্সফোর্ড ডিগ্রি দেখিয়ে এনএইচএসে চাকরি

Icon

লন্ডন প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড প্রতারণায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) এবং একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাল কর্ম-অভিজ্ঞতা দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে মেইডস্টোন ক্রাউন কোর্ট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত এই প্রতারণার মাধ্যমে করদাতাদের প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ডেরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমরান হোসেন (৪০) কেন্টের ওয়েস্টারহ্যামের ফ্রেঞ্চ স্ট্রিট এলাকার হাইভিউ কটেজের বাসিন্দা। তিনি মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতারণার তিনটি অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, আমরান হোসেন এনএইচএস এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৭১টি চাকরির আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি ১৩টি জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেতে সক্ষম হন। এসব পদে কাজ করার সময় তিনি সরকারি অর্থ থেকে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭২ পাউন্ড ৪১ পেন্স বেতন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের জীবনবৃত্তান্তে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্কবেক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জনের দাবি করেন। শুধু তাই নয়, এই দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি একটি জাল ডিগ্রি সনদও জমা দেন।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করার ভুয়া অভিজ্ঞতাও দেখান। এর মধ্যে কোভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ‘ডিরেক্টর অব ট্রান্সফরমেশন’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি ছিল। এসব তথ্যের পক্ষে তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রিত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে জাল সুপারিশপত্র তৈরি করেছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি চিকিৎসাজনিত ছুটিতে চলে যেতেন। এরপর দীর্ঘ সময় পূর্ণ বেতন গ্রহণ করলেও কর্মস্থলে কার্যত কোনো দায়িত্ব পালন করতেন না। অনেক ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া অথবা চাকরি বাতিল হওয়া পর্যন্ত তিনি বেতন পেতে থাকেন।

এনএইচএসের পাশাপাশি কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিল, নটিংহ্যাম সিটিকেয়ার পার্টনারশিপ এবং যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থাসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের অ-ক্লিনিক্যাল নেতৃত্বের পদেও তিনি একই কৌশলে চাকরি লাভ করেছিলেন।

অবশেষে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে উপ-প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পদে আবেদন করার সময় তার প্রতারণার জাল ভেঙে পড়ে। নিয়োগের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রনিক স্টাফ রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে তার পূর্ববর্তী কর্ম-ইতিহাস যাচাই করে। সেখানে তার দাবি করা চাকরির কোনো সরকারি রেকর্ড না পাওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে হয় এবং পরবর্তী তদন্তে পুরো প্রতারণার চিত্র সামনে আসে।

মামলার রায়ে আদালত আমরান হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে অপরাধলব্ধ সম্পদ পুনরুদ্ধার আইনের আওতায় পৃথক আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাল সনদ এবং মিথ্যা কর্ম-অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রতারণার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের মতে, এই মামলাটি সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং প্রতারণা শনাক্তে আধুনিক যাচাই ব্যবস্থার কার্যকারিতা আবারও স্পষ্ট করেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার