বিজ্ঞাপন
সৌদিতে প্রবাসীর মৃত্যু: বাবাকে দেখার আগেই এতিম যমজ সন্তান
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
পাঁচ মাস বয়সী যমজ সন্তান আদনান ও নুসাইবা। পৃথিবীতে আসার পর থেকেই বাবাকে শুধু মোবাইল ফোনের পর্দায় দেখেছে তারা। দেশে ফিরে সন্তানদের কোলে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই দিন গুনছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর আদর্শ গ্রামের প্রবাসী যুবক নাছির হোসেন (২৫)।
গত রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সৌদি আরবে সড়ক নির্মাণকাজের সময় রোড রোলারের চাপায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাছির। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রবাস জীবনের কঠোর সংগ্রাম বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর জন্ম নেয় তার যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তানদের জন্মের সময় তিনি সৌদি আরবে থাকায় তাদের সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি।
স্বজনরা জানান, নিয়মিত ভিডিও কলে স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নিতেন নাছির। সন্তানদের দেখে আনন্দিত হলেও আক্ষেপ করে বলতেন, “কবে যে বাচ্চাদের কোলে নিতে পারব।” দেশে ফিরে সন্তানদের নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন সাজানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই সুযোগ আর হলো না।
নাছিরের বাবা শফিকুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান চালান। ছয় বছর আগে অনেক কষ্টে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নাছির। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভর করত পুরো পরিবার।
এদিকে নাছিরের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্ত্রী আছিয়া খাতুন বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। আর কিছুই না বোঝা পাঁচ মাস বয়সী যমজ সন্তান দুটি মায়ের পাশে নিশ্চুপ শুয়ে আছে। তারা জানে না, তাদের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা মানুষটি আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নাছির ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, যমজ সন্তান দুটি বাবার স্নেহ পাওয়ার আগেই পিতৃহারা হলো।”
এদিকে নিহত নাছির হোসেনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। শেষবারের মতো তার মুখটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। পরিবারের সুখের জন্য যে মানুষটি হাজার মাইল দূরে প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছিলেন, তিনি ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে।