বিজ্ঞাপন
স্পেন পর্তুগাল ফ্রান্স যুক্তরাজ্যসহ তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ
মে মাসেই ৪০ ডিগ্রির ছোঁয়া
পর্তুগাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:২২ এএম
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ ইউরোপসহ পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মে মাসেই এমন তীব্র গরম ইউরোপের জন্য বিরল ঘটনা এবং কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিনের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া সংস্থা “আএমেত” জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে গুয়াদিয়ানা ও গুয়াদালকিভির উপত্যকা অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে প্রবাহিত উষ্ণ বায়ু ও উচ্চচাপ বলয়ের কারণে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতেও স্বস্তি মিলছে না। স্পেন ও পর্তুগালের বিভিন্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় “ট্রপিক্যাল নাইট” বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উষ্ণ রাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
পর্তুগালের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। রাজধানী লিসবনসহ বিভিন্ন শহরে কয়েকদিন ধরে গরম অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ফ্রান্সেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা “মেতেও ফ্রঁস” জানিয়েছে, মে মাসে জাতীয় গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। প্যারিস, নঁত, লা রশেল ও ব্রেস্টসহ বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা মৌসুমি স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যেও সপ্তাহান্তে তীব্র গরমের আভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে কয়েকটি অঞ্চলে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রা ও শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তাপমাত্রার এই নাটকীয় পরিবর্তন “ক্লাইমেট হুইপল্যাশ” বা জলবায়ুগত চরম ওঠানামার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এ ধরনের অস্বাভাবিক আবহাওয়া ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশগুলোর একটি। ফলে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।