বিজ্ঞাপন
পর্তুগালে অভিবাসন জট নিরসনে অগ্রগতি, কি বলছে নতুন পরিসংখ্যান?
প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০২:৫৩ এএম
বিজ্ঞাপন
পর্তুগালে অভিবাসন প্রক্রিয়ার দীর্ঘদিনের জট কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে দেশটির সরকার। পার্লামেন্টের সাংবিধানিক বিষয়ক, অধিকার, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি এবং রাষ্ট্র সংস্কার ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক যৌথ শুনানিতে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী এন্তেনিও লেইতাও আমারো।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৩ জুন ঘোষিত নতুন ও তুলনামূলক কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় পুরোনো বিপুল সংখ্যক ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সরকারের তথ্যমতে, প্রথমবারের মতো সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার। পাশাপাশি অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা আইমা আরও ২ লাখ ১৮ হাজার নতুন অভিবাসীর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
শুনানিতে জানানো হয়, বিভিন্ন ঝুলে থাকা ফাইল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার নোটিফিকেশন পাঠানো হয়েছে। এর আওতায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার ব্যক্তিকে সরাসরি সেবা প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২৫ হাজার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫১ হাজার ৬২২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার রেসিডেন্স কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, ২০২৪ সালের জুনের আগে থেকেই পর্তুগালে অবস্থানরত বিদেশিদের মধ্যে “ম্যানিফেস্টাসাও দি ইন্টারেসে”, সিপিএলপি এবং অন্তর্বর্তীকালীন বৈধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ইতোমধ্যে রেসিডেন্স কার্ড হাতে পেয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার আবেদন ঝুলে ছিল। সেই জট কাটাতে সরকারি কর্মীরা “অসাধারণ পরিশ্রম” করেছেন। তাঁর ভাষায়, “রেসিডেন্স কার্ড হাতে পেয়ে অনেক মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরেছে।”
ম্যানিফেস্টাসাও দি ইন্টারেস প্রক্রিয়া বন্ধ
পর্তুগালের সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের একটি ছিল ম্যানিফেস্টাসাও দি ইন্টারেস ব্যবস্থা বাতিল করা। আগে পর্যটক ভিসায় এসে কর ও সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে নির্দিষ্ট সময় অবদান রাখলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈধতার আবেদন করা যেত।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার মানুষকে নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৪ হাজার আবেদনকারী সাক্ষাৎকার বা সেবার আওতায় আসেন। পরে ২ লাখ ৫৬ হাজার আবেদনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২ লাখ ২৯ হাজার অনুমোদিত এবং প্রায় ২৬ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার রেসিডেন্স কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সিপিএলপি প্রক্রিয়াতেও অগ্রগতি
কমিউনিটি অব পর্তুগিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কান্ট্রিজ বা সিপিএলপি ভিত্তিক আবাসন প্রক্রিয়াতেও বড় অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজার নোটিফিকেশন জারি করা হয় এবং ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষকে সেবা দেওয়া হয়েছে। মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার সিদ্ধান্তের মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার আবেদন অনুমোদিত এবং ১৩ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার রেসিডেন্স কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তায় অবদান রাখছেন ১০ লাখের বেশি বিদেশি
শুনানিতে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে পর্তুগালে বসবাসরত বিদেশির সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১০ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ব্যক্তি সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে নিয়মিত অবদান রাখছেন।
তিনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে “ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি” ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সামাজিক সহায়তা গ্রহণের হার পর্তুগিজ নাগরিকদের তুলনায় অভিবাসীদের মধ্যে কম। শিশু ভাতা ও সামাজিক সহায়তার ক্ষেত্রেও বিদেশিদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র রাজনীতি
শুনানিতে ডানপন্থী দল শেগা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আবাসিক সনদ প্রদানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটির অভিযোগ, আবাসিক সনদের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অভিবাসন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
তবে মন্ত্রী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আবাসিক সনদ কোনোভাবেই “দেশে প্রবেশের দরজা” নয় এবং অভিবাসন নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সোসালিস্ট পার্টি সরকারের তথ্য উপস্থাপনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটির মতে, কিছু তথ্য উপস্থাপনায় অসঙ্গতি থাকায় সংসদীয় নজরদারি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।