Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিজের কাছে মিলল লাশ, বৃষ্টির বলে ধারণা পুলিশের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিজের কাছে মিলল লাশ, বৃষ্টির বলে ধারণা পুলিশের

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। দেশটির হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পোশাকের সাথে মিল থাকায় পুলিশের ধারণা লাশটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। বৃষ্টি নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য গতবছর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। 

মঙ্গলবার দাখিল করা একটি ফৌজদারি হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ঠিক দক্ষিণে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পরনে থাকা পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে শেষবার দেখা নাহিদা বৃষ্টির পোশাকের মিল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভিডিও ফুটেজে নাহিদা বৃষ্টিকে যে বিশেষ শৈলীর পোশাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল, উদ্ধারকৃত মরদেহের পরনেও একই ধরনের পোশাক ছিল।’

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, একটি কালো রঙের ময়লার ব্যাগের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীর শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল, যা একই ঘটনায় নিহত আরেক শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যুর ধরন সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচন ধরায় তা পরীক্ষার জন্য পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসে পাঠানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহটি নাহিদা বৃষ্টির কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল অফিস থেকে বের হওয়ার সময় বৃষ্টিকে শেষবার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। তখন তার পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের লম্বা হাতার শার্ট, কালো রঙের ঢিলেঢালা প্যান্ট এবং সাদা তলার স্নিকার্স।

নিখোঁজ দুই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের সন্ধানে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। এরই মধ্যে গত ২৪ এপ্রিল একই ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে তদন্তকারীরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়ার সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম আবুঘারবিয়ার বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হিশাম ওই দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি ময়লা ফেলার মেশিনে ফেলে দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা সেসব জিনিসে রক্তের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দেহভাজনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন টাম্পার একটি আদালত। শুনানির সময় আদালত কক্ষ শোকার্ত বন্ধুদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

নিহত দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির স্মরণে ইতোমধ্যে একাধিক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। ইউএসএফ-এর শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার