Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ওষুধে বিজ্ঞানীদের হতাশা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ওষুধে বিজ্ঞানীদের হতাশা

বিজ্ঞাপন

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তৈরি নতুন একটি ওষুধ নিয়ে বড় আশা দেখেছিলেন চিকিৎসক ও গবেষকেরা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষায় সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ওষুধটি। রক্তে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানো এক ধরনের চর্বিজাতীয় উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারলেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়নি এটি। ফলে ওষুধটির উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নোভার্টিস।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধটির নাম পেলাকারসেন। রক্তে লিপোপ্রোটিন (এ) বা এলপি(এ) নামের এক ধরনের চর্বিজাতীয় উপাদানের মাত্রা কমানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ধারণা, এই উপাদানের অতিরিক্ত উপস্থিতি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের প্রতিরোধমূলক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টিভেন নিসেন ও তাঁর সহকর্মীরা প্রায় সাত বছর ধরে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত এবং রক্তে এলপি(এ)-এর মাত্রা বেশি থাকা ৮ হাজার ৩৫০ জন।

অংশগ্রহণকারীদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক দলকে পেলাকারসেন এবং অন্য দলকে প্লাসিবো বা ওষুধবিহীন বিকল্প দেওয়া হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ও গবেষকেরা কেউই জানতেন না কে কোনটি গ্রহণ করছেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, পেলাকারসেন গ্রহণকারীদের রক্তে এলপি(এ)-এর মাত্রা গড়ে ৭৭ শতাংশ কমেছে। তবে এতে হৃদরোগে মৃত্যু, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা রক্তনালিতে ব্লক দূর করতে জরুরি অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমেনি।

গবেষণায় দুই দলের প্রায় ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর গুরুতর হৃদরোগজনিত ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ ওষুধ গ্রহণকারী ও প্লাসিবো গ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তথ্য বিশ্লেষণ করেও ওষুধটির কার্যকারিতার প্রমাণ মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধমূলক হৃদরোগ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ফাতিমা রদ্রিগেজ গবেষণার ফলাফলকে বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পরীক্ষাটি যথেষ্ট ভালোভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং ফলাফলও স্পষ্ট। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণে এলপি(এ)-এর ভূমিকা এবং এটি কমানোর চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

কেন ব্যর্থ হলো ওষুধটি?

গবেষকদের ধারণা, ওষুধটির ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি বয়সী ছিলেন এবং তাদের অনেকেই আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত। ফলে রোগের অগ্রসর পর্যায়ে এলপি(এ)-এর মাত্রা কমিয়ে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল। গবেষকদের ধারণা, এলডিএল নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে এলপি(এ)-এর উচ্চমাত্রাজনিত কিছু ঝুঁকি আগেই কমে গিয়ে থাকতে পারে।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এলপি(এ)-এর মাত্রা আরও বেশি কমানো প্রয়োজন। নিসেনের ধারণা, প্রায় ৮০ শতাংশের পরিবর্তে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো গেলে হয়তো ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।

এখন করণীয় কী?

চিকিৎসকদের মতে, এলপি(এ)-এর উচ্চমাত্রা বংশগত কারণে হতে পারে। যাদের শরীরে এই উপাদানের মাত্রা বেশি, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কম মাত্রার মানুষের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে।

এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে জীবনে অন্তত একবার এলপি(এ) পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ, সাধারণত একজন মানুষের জীবনে এই উপাদানের মাত্রা খুব বেশি পরিবর্তিত হয় না।

তবে এলপি(এ)-এর উচ্চমাত্রা কমানোর জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা নেই। এ অবস্থায় চিকিৎসকেরা ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্যাটিনজাতীয় ওষুধ গ্রহণের কথাও বলা হচ্ছে।

তবে পেলাকারসেনের ব্যর্থতা মানেই এলপি(এ) কমানোর গবেষণার সমাপ্তি নয়। আরও কয়েকটি ওষুধ নিয়ে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চলছে। গবেষকদের আশা, নতুন ওষুধগুলো রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োগ করা গেলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার