Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

দুধের সঙ্গে যে ৩ ধরণের খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলবেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

দুধের সঙ্গে যে ৩ ধরণের খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলবেন

বিজ্ঞাপন

দুধ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের একটি পরিচিত অংশ। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আছে। কেউ সকালে দুধ পান করেন, কেউ আবার রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ খেতে পছন্দ করেন। অনেকে ফল, মাছ বা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গেও দুধ খান।

তবে দুধের সঙ্গে কিছু খাবার খাওয়া নিয়ে আয়ুর্বেদে বিশেষ কিছু নিয়ম ও সতর্কতা আছে। তাহলে দুধের সঙ্গে কোন খাবারগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন? আর এ বিষয়ে পুষ্টিবিজ্ঞান কী বলে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

টকজাতীয় ফল

লেবু, কমলালেবু ও অন্যান্য টকজাতীয় ফলে অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিড দুধের সঙ্গে মিশলে দুধ জমাট বাঁধতে পারে। দুধ থেকে ছানা তৈরির ক্ষেত্রেও অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়।

আয়ুর্বেদের কিছু খাদ্যবিধিতে দুধের সঙ্গে টক ফল না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে দুধের সঙ্গে টক ফল খেলেই পেটে ক্ষতিকর কিছু তৈরি হবে বা শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হবে, এমন প্রমাণ নেই। খাবারের অম্লতার কারণে দুধ জমাট বাঁধা আর পাকস্থলীতে বিষ তৈরি হওয়া এক বিষয় না।

কী করবেন: দুধ ও টক ফল একসঙ্গে খাওয়ার পর অস্বস্তি হলে আলাদা সময়ে খেয়ে দেখতে পারেন। সবার জন্য নির্দিষ্টভাবে দুই ঘণ্টা বিরতি রাখা জরুরি, এমন বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা নেই।

মাছ

মাছ ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা আছে। আয়ুর্বেদে এই দুই খাবারের সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে মাছ ও দুধ একসঙ্গে খাওয়াকে সাধারণভাবে ক্ষতিকর বলা হয় না।

মাছ ও দুধ দুটিই প্রোটিনের ভালো উৎস। এ দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরে বিষ তৈরি হয় বা রক্তে ক্ষতিকর রাসায়নিক জমে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

তবে মাছ বা দুধের কোনো একটি খাবারে অ্যালার্জি থাকলে সেটি এড়িয়ে চলতে হবে। আবার দুধ খাওয়ার পর যাদের পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়া হয়, তাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকতে পারে। এ ধরনের সমস্যা খাবারের সংমিশ্রণের বদলে দুধ হজম করতে অসুবিধার কারণে হতে পারে।

কী করবেন: মাছ ও দুধ আলাদা সময়ে খেতেই হবে, এমন সাধারণ বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। তবে কোনো খাবার খাওয়ার পর বারবার অস্বস্তি হলে তার কারণ বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মুলা শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত। এতে আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আয়ুর্বেদের কিছু খাদ্যবিধিতে মুলার সঙ্গে দুধ খাওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এই ধারণার পেছনে খাবার দুটির প্রকৃতি ও হজমের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে মুলা ও দুধ একসঙ্গে খেলে পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হয় বা শরীরে বিষ তৈরি হয়, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। সাধারণভাবে মুলা ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া সবার জন্য নিষিদ্ধ, এমন পুষ্টিবৈজ্ঞানিক নির্দেশনাও নেই।

কী করবেন: মুলা ও দুধ একসঙ্গে খেলে আপনার পেটের সমস্যা হলে খাবার দুটি আলাদা সময়ে খেতে পারেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবারের সংমিশ্রণকে সবার জন্য ক্ষতিকর ধরে নেওয়া ঠিক না।

দুধ খাওয়ার পর পেটের সমস্যা হলে কী করবেন?

দুধ পান করার পর কারও কারও পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা অথবা ডায়রিয়া হতে পারে। এসব সমস্যার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা। এ অবস্থায় শরীর দুধে থাকা ল্যাকটোজ নামের শর্করা ঠিকমতো হজম করতে পারে না।

এ ধরনের সমস্যা এড়াতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন-

একবারে বেশি দুধ না খেয়ে অল্প পরিমাণে পান করে দেখুন।

দুধ খাওয়ার পর কোন খাবার খেলে অস্বস্তি হচ্ছে, তা লক্ষ করুন।

প্রয়োজন হলে ল্যাকটোজমুক্ত দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

বারবার পেটের সমস্যা হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

দুধে অ্যালার্জি থাকলে নিজে থেকে পরীক্ষা করার জন্য দুধ পান করবেন না।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের উৎস। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অকারণে পুরোপুরি বাদ না দেওয়াই ভালো।

দুধের সঙ্গে টক ফল, মাছ ও মুলো খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ আয়ুর্বেদের কিছু খাদ্যবিধিতে আছে। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই খাবারগুলো একসঙ্গে খেলেই শরীরে বিষ তৈরি হয় বা গুরুতর ক্ষতি হয়, এমন প্রমাণ নেই। প্রত্যেকের হজমক্ষমতা ও খাবার সহ্য করার ক্ষমতা আলাদা। তাই ভয় বা প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

সূত্র: ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিভি ৯ বাংলাতে ‘Milk nutrition: দুধের সঙ্গে ভুলেও খাবেন না এই খাবার! খেলেই শরীরের বারোটা বাজবে’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেল থেকে সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার