Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

সন্তান নেওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি নেয়া জরুরি

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

সন্তান নেওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি নেয়া জরুরি

বিজ্ঞাপন

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে গর্ভধারণের কয়েক মাস আগে থেকেই কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকা, ওজন এবং আগে থেকে থাকা কোনো রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সবই সুস্থ গর্ভধারণ ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তান নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের ব্যবহার এবং জীবনযাপনে কী পরিবর্তন দরকার, সে বিষয়ে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।

১. ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ

গর্ভধারণের আগে থেকেই পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে এবং এর ঘাটতি নিউরাল টিউবের কিছু জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সাধারণভাবে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা নারীদের গর্ভধারণের অন্তত এক মাস আগে থেকে প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশি মাত্রার প্রয়োজন হতে পারে।

যেমন আগের গর্ভধারণে শিশুর নিউরাল টিউবের ত্রুটি থাকলে, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করলে, ডায়াবেটিস থাকলে বা অন্য কোনো বিশেষ ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করা উচিত।

শাকসবজি ও অন্যান্য খাবার থেকেও ফোলেট পাওয়া যায়। তবে গর্ভধারণের আগে প্রয়োজনীয় মাত্রা নিশ্চিত করতে অনেকের জন্য আলাদা ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।

২. প্রয়োজনীয় টিকা সম্পন্ন করুন

গর্ভধারণের আগে টিকার ইতিহাস পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সংক্রমণ গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে রুবেলা প্রতিরোধী টিকা, যেমন এমএমআর, আগে নেওয়া হয়েছে কি না তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এমএমআর টিকা গর্ভাবস্থায় দেওয়া হয় না, তাই প্রয়োজন থাকলে গর্ভধারণের আগেই এটি নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হয়। হেপাটাইটিস বি, টিটেনাসসহ অন্যান্য টিকার প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা ভালো।

৩. রক্তস্বল্পতা ও আয়রনের ঘাটতি পরীক্ষা করুন

গর্ভাবস্থায় আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই সন্তান নেওয়ার আগে রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

রক্তস্বল্পতা থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। নিজে থেকে বেশি মাত্রায় আয়রন খাওয়া উচিত নয়।

৪. ভিটামিন ডি সম্পর্কে সচেতন থাকুন

ভিটামিন ডি হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর ঘাটতি আছে কি না, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা এবং ঘাটতি থাকলে উপযুক্ত মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সেবন করা উচিত নয়।

৫. ক্যাফেইন কমিয়ে আনুন

চা, কফি, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ও চকলেটসহ বিভিন্ন খাবার ও পানীয়তে ক্যাফেইন থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে কিছু ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস কমিয়ে আনা ভালো। গর্ভাবস্থায় সাধারণভাবে দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে ক্যাফেইনের পরিমাণ পানীয়ভেদে ভিন্ন হয়। তাই শুধু চা বা কফি নয়, দিনের মোট ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ বিবেচনায় রাখা জরুরি।

৬. ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় রাখুন

গর্ভধারণের আগে অতিরিক্ত ওজন বা খুব কম ওজন দুটিই কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন থাকলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে কম ওজনের ক্ষেত্রেও শিশুর কম ওজন বা সময়ের আগে জন্মের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই সন্তান নেওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওজনকে উপযুক্ত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা ভালো। তবে গর্ভবতী হওয়ার পর নিজের মতো করে ওজন কমানোর কঠোর ডায়েট করা উচিত নয়।

৭. স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস করুন

সন্তান নেওয়ার আগে থেকেই সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। খাবারে শাকসবজি, ফল, মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, দুধ বা উপযুক্ত বিকল্পসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত।

খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, তেল-চর্বি এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন। পরিশোধিত শর্করার বদলে সম্ভব হলে বেশি আঁশযুক্ত শস্য ও খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

একটি সুষম খাবারে শাকসবজি ও ফলের পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাত বা রুটির মতো শর্করা জাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে।

৮. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

সন্তান নেওয়ার আগে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড শরীরকে গর্ভাবস্থার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে পারে। হাঁটা, সাঁতার বা বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা যেতে পারে।

তবে আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বা ব্যায়াম শুরু করার বিষয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৯. ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন

ধূমপান নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থায় ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপানও গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে নারী-পুরুষ উভয়েরই ধূমপান বন্ধ করা এবং ঘরের পরিবেশ ধূমপানমুক্ত রাখা উচিত।

১০. আগে থেকে থাকা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, খিঁচুনিসহ দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকলে গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।

এ ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ খেলে সেটি গর্ভধারণের ক্ষেত্রে নিরাপদ কি না, তাও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।

আগের গর্ভধারণে কোনো জটিলতা থাকলে সেটিও চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বংশগত রোগের ইতিহাস থাকলেও তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সন্তান নেওয়ার আগে শুধু মায়ের নয়, বাবার স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন ও কিছু রোগ পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি দুজনেরই নেওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র: গর্ভধারণের আগে মায়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ফলিক অ্যাসিড, টিকা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (NICHD)-এর নির্দেশিকা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার