বিজ্ঞাপন
আপনার মলদ্বার কফি গ্রহণের জন্য তৈরি নয়
এনেমা ট্রেন্ড সম্পর্কে লন্ডনের চিকিৎসক
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ওজন কমানো, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা কিংবা হজমশক্তি বাড়ানোর নানা কৌশল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনই এক অদ্ভুত ট্রেন্ড হলো কফি এনেমা (coffee enema)। এতে কফি পান করার বদলে মলদ্বার (রেকটাম) দিয়ে কোলনে কফি প্রবেশ করানো হয়। এর সমর্থকদের দাবি, এতে মলত্যাগ সহজ হয়, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়, শক্তি বাড়ে এবং হজমের উন্নতি ঘটে।
ব্রিটিশ সাময়িকী বিবিসি সায়েন্স ফোকাসে এ বিষয়ে লিখেছেন নিশ মানেক নামের এক চিকিৎসক। ডা. নিশ মানেক লন্ডনের একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি)। তিনি ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন গোল্ড মেডেলের প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। মানেক অক্সফোর্ড মেডিকেল স্কুলের জন্য শিক্ষামূলক কোর্সও তৈরি করেছেন। এ ছাড়া দ্য গার্ডিয়ান ও পালস সাময়িকীতে নিবন্ধ লিখেছেন।
সায়েন্স ফোকাসে প্রকাশিত ডা. নিশ মানেকের ওই নিবন্ধে বলা হয়, কফি এনেমার এই ধারণা নতুন নয়। ১৯৫০-এর দশকে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত খাদ্যাভ্যাস ও এনেমাভিত্তিক পদ্ধতি ‘গারসন থেরাপি’র অংশ ছিল কফি এনেমা। তবে সেই চিকিৎসাপদ্ধতি এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে এই প্রবণতা (Trend) টিকে আছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে টিকটকে ছড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে এটি আবার আলোচনায় আসে।
সর্বশেষ এই পুনরুত্থান সত্ত্বেও, এটি কার্যকর—এমন কোনো ভালো প্রমাণ নেই। তবে এর কিছু অপ্রীতিকর ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে প্রচুর প্রতিবেদন রয়েছে।
প্রথমত, আপনার মলদ্বার কফি গ্রহণের জন্য তৈরি নয়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন ও অ্যাসিড সংবেদনশীল টিস্যুতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, ব্যথা এমনকি কফি যথেষ্ট ঠান্ডা না হলে পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষতও হতে পারে। সময়ের সঙ্গে বারবার এনেমা ব্যবহার করলে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
আর এই প্রবণতায় ‘ডিটক্সিফিকেশন’ (Detoxification)-এর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও, আপনার লিভার ও কিডনি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার জন্য আগে থেকেই যথেষ্ট কার্যকর। তাই নিজে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কিছু চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই।
এরপর রয়েছে নিজে নিজে এই পদ্ধতি প্রয়োগের ঝুঁকি। এতটা আক্রমণাত্মক একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করলে সংক্রমণ কিংবা মলদ্বার ফেটে যাওয়ার মতো আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। গুরুতর সংক্রমণ থেকে সেপসিস হতে পারে, এমনকি তা জীবননাশের কারণও হতে পারে।
তাই আপনি যদি শরীরকে হালকা বা আরও সুস্থ বোধ করাতে চান, তাহলে সাধারণ কিছু অভ্যাস মেনে চলুন: আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান, পানি পান করুন এবং শরীরচর্চা করুন। আর হজমের সমস্যা হলে কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও, কফি এনেমার উপকারিতার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। আর এর ঝুঁকিগুলোও মোটেই তুচ্ছ নয়। মূল কথা? কফি রাখুন আপনার কাপে, কোলনে নয়।