Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

গোড়ালি ব্যথা কেন হয়?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

গোড়ালি ব্যথা কেন হয়?

বিজ্ঞাপন

গোড়ালিতে ব্যথা দৈনন্দিন চলাফেরায় বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপের সময় তীব্র ব্যথা এবং পরে কিছুটা কমে যাওয়ার ঘটনা। এর অন্যতম সাধারণ কারণ হলো প্লান্টার ফ্যাসাইটিস।

পায়ের পাতার নিচে প্লান্টার ফাসিয়া নামে একটি শক্ত টিস্যু রয়েছে। এটি গোড়ালির হাড়ের সঙ্গে পায়ের সামনের অংশকে যুক্ত রাখে এবং হাঁটা ও দাঁড়ানোর সময় পায়ের ওপর পড়া চাপ সামলাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত চাপ বা টান পড়লে এই টিস্যুতে সমস্যা তৈরি হয়ে গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

যাদের গোড়ালি ব্যথার ঝুঁকি বেশি-

মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বেশি দেখা যেতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, নিয়মিত দৌড়ানো বা বেশি হাঁটা এবং পায়ের গঠনগত কিছু সমস্যা এ ধরনের ব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ফ্ল্যাট ফুট বা পায়ের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন থাকলেও গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। গর্ভাবস্থায় ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণেও পায়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ভুল ধরনের জুতা ব্যবহারের সঙ্গেও গোড়ালি ব্যথার সম্পর্ক থাকতে পারে।

গোড়ালি ব্যথা হলে কী করবেন?

ব্যথা শুরু হলে প্রথমেই পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাড়িয়ে থাকার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।

ব্যথার জায়গায় কাপড়ে মোড়ানো বরফ বা আইসপ্যাক অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনে কয়েকবার প্রয়োগ করলে ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। বরফ সরাসরি ত্বকের ওপর না দেওয়াই ভালো।

পা কিছুটা উঁচু করে বিশ্রাম নেওয়াও আরাম দিতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা উচিত।

জুতার দিকেও নজর দিন-

গোড়ালির ব্যথা থাকলে আরামদায়ক ও পায়ের সঙ্গে মানানসই জুতা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত উঁচু হিল, শক্ত সোল কিংবা আঁটসাঁট জুতা এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী নরম ও সহায়ক সোলের জুতা ব্যবহার করা যেতে পারে।

দীর্ঘ সময় খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটলেও গোড়ালিতে চাপ বাড়তে পারে। তাই ব্যথা থাকা অবস্থায় পায়ের জন্য আরামদায়ক জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করা ভালো।

কোন ব্যায়াম উপকারী হতে পারে?

গোড়ালির ব্যথায় পায়ের পেশি ও টেন্ডনের নমনীয়তা বাড়ানোর কিছু স্ট্রেচিং উপকারী হতে পারে। যেমন বসে পা সামনে সোজা করে একটি তোয়ালে বা ফিতা পায়ের পাতায় লাগিয়ে ধীরে নিজের দিকে টেনে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা যায়।

পায়ের পাতার নিচে ঠান্ডা পানির বোতল বা আইস বোতল রেখে ধীরে ধীরে গড়িয়ে নেওয়াও কিছু ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে তা বন্ধ করতে হবে।

সাঁতারের মতো এমন ব্যায়াম করা যেতে পারে, যাতে পায়ের ওপর তুলনামূলক কম চাপ পড়ে।

যা এড়িয়ে চলবেন

গোড়ালিতে ব্যথা থাকলে দীর্ঘ সময় হাঁটা, অতিরিক্ত দৌড়ানো বা একটানা দাঁড়িয়ে থাকা কমাতে হবে। হাইহিল, শক্ত সোলের জুতা এবং পায়ের জন্য অস্বস্তিকর জুতা ব্যবহার না করাই ভালো।

ব্যথা থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে কঠিন ব্যায়াম শুরু করাও ঠিক নয়। ধীরে ধীরে শারীরিক কার্যক্রম বাড়ানো উচিত।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

সব ধরনের গোড়ালি ব্যথা প্লান্টার ফ্যাসাইটিসের কারণে হয় না। আঘাত, টেন্ডনের সমস্যা, স্নায়ু বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, ক্রমেই বাড়তে থাকলে, হাঁটতে সমস্যা হলে, গোড়ালি ফুলে গেলে বা আঘাতের পর তীব্র ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসক পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করবেন এবং ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম বা অন্যান্য চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

গোড়ালি ব্যথার চিকিৎসা কারণভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় নিজে থেকে ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

কত ডিগ্রি তাপমাত্রাকে জ্বর বলা হয়, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ে অনেকেরই বিভ্রান্তি থাকে। থার্মোমিটারে ৯৯ বা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট দেখালেই কি জ্বর হয়েছে? নাকি এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে জ্বর হিসেবে ধরা হয়? এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে।

সাধারণভাবে একজন সুস্থ মানুষের শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে, খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম কিংবা শরীরের কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রায় সামান্য তারতম্য হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

তথ্যসূত্র: গোড়ালি ব্যথার কারণ, লক্ষণ ও করণীয়। NHS, Plantar fasciitis.

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার