বিজ্ঞাপন
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রেখে ডেকে আনছেন ৫ বড় বিপদ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখা ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা হলো নিত্যদিনের এমন দুটি প্রধান বদভ্যাস, যা মূত্রনালির সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। সময়মতো এ সংক্রমণের চিকিৎসা না করালে তা পরে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে গুরুতর পাইলোনেফ্রাইটিস বা কিডনি ইনফেকশনের কারণ হতে পারে।
কাজের চাপে অফিস ডেস্কে বসেই আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিংবা রান্নাঘরে নানা কাজে ব্যস্ত। প্রতিবারই ভাবছেন হাতের কাজটা গুছিয়ে নিয়েই যাবেন। কিন্তু সেই যাওয়া আর হয়ে উঠছে না। প্রতিদিন জেনে বা না জেনে এ কাজটি অনেকেই করে থাকেন। আর অজান্তেই বাড়িয়ে ফেলেন নিজের ক্ষতি।
এ নিত্যদিন যেমন পানি খাওয়া কম হয়, অনেকেরই তেমনি অভ্যাস আছে প্রস্রাব চেপে রাখার। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস নিয়মিতভাবে চলতে থাকলে তা আপনার শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। যেহেতু মূত্রথলি বা ব্লাডারের একটি নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা আছে, তাই তাতে বেশি চাপ পড়লে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, মূত্রনালির সংক্রমণ। কারণ প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখলে মূত্রথলিতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জমতে থাকে এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে, যার লক্ষণ হলো— প্রস্রাবের সময় জ্বালা করা বা তলপেটে ব্যথা।
দ্বিতীয়ত, মূত্রথলির মাংসপেশি দুর্বল হওয়া। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস বজায় রাখলে ব্লাডারের দেওয়াল প্রসারিত হয়ে যায়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্লাডারের সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ভবিষ্যতে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
চতুর্থত, পেলভিক ফ্লোর পেশির ক্ষতি করে। প্রস্রাব আটকে রাখার জন্য পেলভিক ফ্লোরের পেশির ব্যবহার হয়। সবসময় এ পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে তা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে হাঁচি বা কাশির সময় অজান্তেই কিছুটা প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পঞ্চমত, ব্লাডার স্ট্রেচিং বা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি সচরাচর হয় না। তবে ঝুঁকি একেবারে নেই তা বলা যাবে না। কারণ দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না করার ফলে ব্লাডার অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে যায় এবং তাতে এর প্রাকৃতিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তেমন গুরুতর অবস্থায় ব্লাডার ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে, যা প্রাণঘাতী।