Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

পিরিয়ডের সময় সুস্থ থাকতে করণীয়

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

পিরিয়ডের সময় সুস্থ থাকতে করণীয়

বিজ্ঞাপন

মাসিক বা পিরিয়ড নারীর স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে এ সময় অনেকের পেটে ব্যথা, কোমরব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মেজাজ পরিবর্তন কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে কিশোরীদের প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে ভয় বা সংকোচ কাজ করতে পারে। তাই মাসিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং এ সময়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাসিক নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও লজ্জার কারণে অনেক কিশোরী প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহায়তা চাইতে সংকোচ বোধ করে। পরিবারের সদস্যদের উচিত এ বিষয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচকভাবে কথা বলা।

পিরিয়ডের সময় পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড, ট্যাম্পন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ বা অন্য যে পণ্য ব্যবহার করা হয়, তা যথাযথভাবে ব্যবহার ও পরিবর্তন করা জরুরি। দীর্ঘ সময় একই প্যাড ব্যবহার না করে রক্তপাতের পরিমাণ অনুযায়ী নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে। ব্যবহৃত প্যাড যথাযথভাবে মুড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

পিরিয়ডের সময় পরিষ্কার পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করা যায়। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং অস্বস্তিও কমে। যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করার সময় অতিরিক্ত সুগন্ধি সাবান বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করাই ভালো। বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখাই যথেষ্ট।

পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার

মাসিক চলাকালে পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার। পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ, মাংসসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত রক্তপাত হলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যথা হলে কী করবেন?

পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা হওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। হালকা ব্যথা হলে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং তলপেটে উষ্ণ সেঁক আরাম দিতে পারে। শুধু ব্যথার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যথা এত বেশি হলে যে স্কুল, অফিস বা দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কিংবা আগের তুলনায় হঠাৎ ব্যথা বেড়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পিরিয়ডের সময় গোসল বা চুল ধোয়া যাবে?

মাসিকের সময় গোসল করা বা চুল ধোয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে পিরিয়ড চলাকালে নিয়মিত গোসল করা নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য উপকারী। চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার না করার কোনো চিকিৎসা বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

একইভাবে মাসিক চলাকালে সাঁতার বা শারীরিক ব্যায়াম একেবারে নিষিদ্ধ নয়। উপযুক্ত মাসিক ব্যবস্থাপনা ও নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যেতে পারে।

পিরিয়ডের সময় কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন?

মাসিকের সময় অস্বস্তি হলে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে শরীরকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিতে হবে। অপরিষ্কার কাপড় বা দীর্ঘ সময় একই স্যানিটারি পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ছাড়া পিরিয়ডকে ঘিরে ভয়, লজ্জা বা সামাজিক কুসংস্কারের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?

মাসিকের সময় কিছুটা ব্যথা বা অস্বস্তি স্বাভাবিক হলেও সব ধরনের সমস্যা স্বাভাবিক নয়। অতিরিক্ত রক্তপাত, অসহনীয় ব্যথা, বারবার মাসিক অনিয়মিত হওয়া, দীর্ঘদিন মাসিক না হওয়া, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক বছর মাসিক চক্র কিছুটা অনিয়মিত হতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সচেতনতা থেকেই স্বাস্থ্যকর মাসিক ব্যবস্থাপনা

মাসিক কোনো লজ্জার বিষয় নয়, এটি নারীর স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে কিশোরী ও নারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হওয়া দরকার। নিরাপদ মাসিক ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারলেই পিরিয়ডের সময় অনেক অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: মাসিকের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পিরিয়ডকালীন করণীয় বিষয়ক তথ্যের জন্য World Health Organization (WHO)-এর Menstrual Health নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার