Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর সুবিধা-অসুবিধা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর সুবিধা-অসুবিধা

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নারী ও পুরুষদের জন্য বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। কোন পদ্ধতি কার জন্য উপযুক্ত, তা নির্ভর করে বয়স, স্বাস্থ্য, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা, এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোকে সাধারণভাবে অস্থায়ী ও স্থায়ী- এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। অস্থায়ী পদ্ধতির মধ্যে কনডম, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ইনজেকশন, ইমপ্ল্যান্ট ও জরায়ুর ভেতরে স্থাপনযোগ্য ডিভাইস (আইইউডি) উল্লেখযোগ্য, এ সম্পর্কে বিস্তারিত-

কনডম-

কনডম সহজলভ্য এবং হরমোনমুক্ত একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। গর্ভধারণ প্রতিরোধের পাশাপাশি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে যৌনবাহিত বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে এটি। তবে প্রতিবার সহবাসের সময় সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়। ভুল ব্যবহার, ছিঁড়ে যাওয়া বা পিছলে যাওয়ার কারণে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে বিকল্প কনডম ব্যবহার করা যেতে পারে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি-

বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বড়িতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন—দুই ধরনের হরমোন থাকে, আবার কিছু বড়িতে শুধু প্রোজেস্টিন হরমোন থাকে। নিয়ম মেনে প্রতিদিন বড়ি খেলে এটি একটি কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হতে পারে। কিছু নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের সমস্যা বা অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণেও হরমোনাল বড়ি উপকারী হতে পারে।

তবে সবার জন্য একই ধরনের বড়ি উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে কিছু ধরনের মাইগ্রেন, উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস, নির্দিষ্ট হৃদ্রোগ বা লিভারের রোগ থাকলে হরমোনাল বড়ি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ধূমপান করেন এমন নারীদের ক্ষেত্রেও বয়স ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রোজেস্টিন-ভিত্তিক বড়ি-

শুধু প্রোজেস্টিনযুক্ত বড়ি অনেক নারীর জন্য বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে, যখন ইস্ট্রোজেনযুক্ত বড়ি ব্যবহার করা উপযুক্ত নয়, তখন চিকিৎসকের পরামর্শে এ ধরনের বড়ি নেওয়া যায়। এ ধরনের বড়ি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তা না হলে মাসিকের ধরনে পরিবর্তন বা অনিয়মিত রক্তপাত হতে পারে।

জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি-

অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে সমস্যা হলে জরুরি গর্ভনিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বিকল্প নয়। জরুরি গর্ভনিরোধকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহারের সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে যত দ্রুত নেওয়া যায়, ততই ভালো কাজ করে এটি। কোনটি কখন ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন-

প্রোজেস্টিন-ভিত্তিক ইনজেকশন নির্দিষ্ট সময় পরপর নিতে হয় এবং নিয়মিত বড়ি খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ কারণে অনেকের কাছে এটি সুবিধাজনক। তবে এর কারণে মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা কিছু সময়ের জন্য মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তাই ইনজেকশন বন্ধ করার পর স্বাভাবিক প্রজননক্ষমতা ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

ইমপ্ল্যান্ট-

ইমপ্ল্যান্ট হলো দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি সাধারণত বাহুর ওপরের অংশের চামড়ার নিচে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। এতে হরমোন ধীরে ধীরে শরীরে নিঃসৃত হয়।

এর সুবিধা হলো প্রতিদিন কোনো ওষুধ মনে করে খেতে হয় না এবং দীর্ঘ সময় গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা যায়। তবে মাসিকের ধরনে পরিবর্তন, অনিয়মিত রক্তপাতসহ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এতে দেখা দিতে পারে।

কপার আইইউডি-

কপার আইইউডি বা কপার-টি জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করা হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি এবং হরমোনমুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। একবার স্থাপনের পর কয়েক বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ প্রতিরোধে কার্যকর থাকতে পারে।

এর একটি সুবিধা হলো এতে হরমোন নেই এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের মাধ্যমে যেকোনো সময় খুলে ফেলা যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে মাসিকের রক্তপাত ও ব্যথা বাড়তে পারে এই কপার আইইউডি। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে এটি স্থাপন ও অপসারণ করতে হবে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা/ ছবি সংগৃহীত

হরমোনাল আইইউডি-

হরমোনাল আইইউডিও জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করা হয়। এটি ধীরে ধীরে প্রোজেস্টিনজাত হরমোন নিঃসরণ করে এবং দীর্ঘ সময় গর্ভধারণ প্রতিরোধে কার্যকর। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিকের রক্তপাত কমে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের মাধ্যমে এটি অপসারণ করা যায়, তবে শুরুতে অনিয়মিত রক্তপাত বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ-

যাঁরা ভবিষ্যতে আর সন্তান নিতে চান না, তাঁদের জন্য স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে। পুরুষের ক্ষেত্রে ভ্যাসেকটমি এবং নারীর ক্ষেত্রে টিউবাল সার্জারি করা হয়। এগুলো স্থায়ী পদ্ধতি, আর এই পদ্ধতি ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ভালোভাবে চিন্তা করা জরুরি। অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

কোন পদ্ধতি আপনার জন্য ভালো?

জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো একটি পদ্ধতি সবার জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়। কারও জন্য কনডম যথেষ্ট হতে পারে, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট বা আইইউডি বেছে নিতে পারেন। স্তন্যদান, বয়স, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় নিতে হয় এইসব পদ্ধতি ব্যাবহারের আগে।

তাই নিজের ইচ্ছায় হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ শুরু বা পরিবর্তন না করে চিকিৎসক বা পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানকারীর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া ভালো। মনে রাখতে হবে, কনডম ছাড়া অধিকাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না। তাই সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে কনডমের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক তথ্য জেনে নিজের স্বাস্থ্য ও পারিবারিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতি বেছে নেওয়াই নিরাপদ জন্মনিয়ন্ত্রণের মূল বিষয়।

তথ্যসূত্র-

১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

বিষয়- পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এই নির্দেশিকায় বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ধরন, কার্যকারিতা এবং উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

বিষয়- জরুরি গর্ভনিরোধক। অরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পর জরুরি গর্ভনিরোধক ব্যবহারের সময়সীমা, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

৩. যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা (NHS)

বিষয়- হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি। বিভিন্ন হরমোনাল পদ্ধতির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যগত সতর্কতা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার