বিজ্ঞাপন
মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমান? যে বিপদ ডেকে আনছেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঘুমানোর আগে অথবা ঘুম ভাঙার পর অনেকেই প্রথমে মোবাইল ফোন হাতে নেন। কেউ হয়তো বিছানায় শুয়ে ফেসবুক দেখেন বা কেউ মেসেজের উত্তর দেন, আবার কেউ ফোনটি বালিশের নিচে বা বিছানার পাশে রেখে ঘুমান। দৈনন্দিন জীবনের গড়ে ওঠা এই অভ্যাসকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করলেও, রাতে ফোন ব্যবহার এবং সেটি মাথার কাছে রাখার কিছু প্রভাব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ফোন ব্যবহারের কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দপতন ঘটে। স্ক্রিনের আলো, বিভিন্ন নোটিফিকেশন এবং ফোনের প্রতি বারবার মনোযোগ চলে যাওয়া পর্যাপ্ত ঘুমের বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, মোবাইল ফোনের বিকিরণ নিয়ে বিভিন্ন চিন্তা থাকলেও, শুধু বিছানার পাশে ফোন রাখার কারণে ক্যান্সার বা অন্য গুরুতর রোগ হয়- এমন প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই অযথা আশঙ্কার বদলে ঘুমের ওপর ফোন ব্যবহারের বাস্তব প্রভাবগুলো জানা জরুরি।
১. ফোনের আলো কমিয়ে দিতে পারে ঘুমের স্বাভাবিক প্রবণতা
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। ফোন থেকে নির্গত রশ্মি শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত হতে পারে।
‘পার্সোনাল অ্যান্ড ইউবিকুইটাস কম্পিউটিং’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় সন্ধ্যার আলোর সংস্পর্শ এবং মেলাটোনিন নিঃসরণের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এর প্রভাব নির্ভর করে আলোর তীব্রতা, কতক্ষণ আলোতে থাকা হচ্ছে এবং দিনের কোন সময়ে সেই আলো চোখে পড়ছে তার ওপর।
ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা মেসেজ পড়ার অভ্যাসও ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে।
শুধু স্ক্রিনের আলো নয়, আকর্ষণীয় বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। ফলে বিছানায় যাওয়ার পরও সহজে ঘুম আসে না।
২. নোটিফিকেশনের শব্দেই ভাঙতে পারে ঘুম
ঘুমানোর সময় ফোন ব্যবহার না করলেও সেটি পাশে রাখার কারণে বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটতে পারে। হঠাৎ কল আসা, মেসেজের শব্দ কিংবা ফোনের ভাইব্রেশন গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি এসব কারণে অল্প সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে গেলেও সকালে তা মনে নাও থাকতে পারে।
বারবার ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটলে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পরদিনের কর্মক্ষমতা ও মনোযোগে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকার পরও ক্লান্তি, বিরক্তি কিংবা কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া ফোন হাতের কাছে থাকলে রাতে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মেসেজ বা নোটিফিকেশন দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। একবার ফোন হাতে নিলে কয়েক মিনিটের জন্য শুরু করা স্ক্রলিং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। ফলে আবার ঘুমিয়ে পড়তেও দেরি হয়।
নিয়মিত এমন অভ্যাস চলতে থাকলে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের রুটিন বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই রাতে ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা এবং ফোনটি বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখার অভ্যাস ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।