Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

ডায়াবেটিস লিভারের কতটা ক্ষতি করে, প্রতিরোধের উপায় কী?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

ডায়াবেটিস লিভারের কতটা ক্ষতি করে, প্রতিরোধের উপায় কী?

বিজ্ঞাপন

নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ডায়াবেটিস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং এমনকি লিভার বিকল হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে। আপনার শরীরের রক্তে শর্করার উচ্চমাত্রা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মেটাবলিক ডাইসফানকশন অ্যাসোসিয়েশন স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (এমএএসএলডি) বা সাধারণ ভাষায় ফ্যাটি লিভার নামে পরিচিত।

ডায়াবেটিস কীভাবে ধাপে ধাপে লিভারের ক্ষতি করে, তা নিচে আলোচনা করা হলো—

১. ফ্যাটি লিভার

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের লিভারে চর্বি জমে। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও শর্করার আধিক্যের কারণে লিভারের ওজনের ৫ শতাংশের বেশি চর্বি জমা হয়। প্রাথমিক এই ধাপে সাধারণত কোনো বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

২. লিভারে প্রদাহ বা ম্যাশ

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পরবর্তী সময়ে MASH (Metabolic dysfunction-associated steatohepatitis)-এ আক্রান্ত হন। চর্বি জমার ফলে লিভারে স্থায়ীভাবে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং সোয়েলিং বা লিভার ফুলে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন
৩. লিভার ফাইব্রোসিস ও সিরোসিস

দীর্ঘদিন লিভারে প্রদাহ চলতে থাকলে শরীর সেই ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা করে। এর ফলে লিভারে ক্ষতচিহ্ন বা স্কার টিস্যু তৈরি হয়, যাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। এটি আরও মারাত্মক রূপ নিলে লিভার তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে, যাকে লিভার সিরোসিস বলে। সিরোসিস একটি স্থায়ী এবং জীবনঘাতী অবস্থা।

৪. লিভার ক্যানসার ও লিভার বিকল

সিরোসিসের চূড়ান্ত পর্যায়ে লিভার সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এ পর্যায়ে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে লিভার প্রতিস্থাপন বা ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হতে পারে।

লিভারের রোগপ্রতিরোধ ও করণীয়

১. রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ কিংবা ইনসুলিন গ্রহণ করা উচিত।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ: আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ফেললে লিভারের চর্বি ও প্রদাহ অনেকাংশে কমে আসে।

৩. নিয়মিত স্ক্রিনিং: ফ্যাটি লিভারের কোনো লক্ষণ থাকে না বলে ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত লিভারের এনজাইম পরীক্ষা (যেমন-ALT) এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ফাইব্রোস্ক্যান বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করা উচিত।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার