Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে অনলাইনে প্রেম, যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন ‘প্রতারণা’

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে অনলাইনে প্রেম, যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন ‘প্রতারণা’

বিজ্ঞাপন

অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন অনেকে। শুধু প্রেমের প্রস্তাব বা আবেগের সুযোগ নিয়ে নয়, বরং বিশ্বাস অর্জন করে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলও ব্যবহার করছে প্রতারকরা। এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকলেও যে কেউ প্রতারণার শিকার হতে পারেন। খবর আনন্দবাজারের 

অনলাইনে প্রেমের নামে প্রতারণার নতুন কৌশল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত সাইবার নিরাপত্তাকর্মী আরন বুগাল। তার মতে, সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর সরাসরি টাকা চাওয়ার প্রচলিত কৌশলের বদলে এখন প্রতারকরা মানুষের আবেগ ও মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বাস অর্জন করছে। কখনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করছে, আবার কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই কেউ বিপদে জড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি প্রতারকের প্রস্তাবে সরাসরি ‘না’ বলার পরও অনেকে আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

প্রেমের ধরন, সংজ্ঞা, সবটাই এখন আলাদা। সঙ্গীর খোঁজ এখন চলে ডেটিং অ্যাপে। কখনও সমাজ মাধ্যমের সূত্র ধরে জুড়ে যায় মন-শরীর। সবটাই যে ভুয়ো, প্রেম যে হয় না, তা নয়। তবে সামান্য অসাবধান হলেই ঘটতে পারে বিপদ।

আরন এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, প্রতারকদের লক্ষ্যই থাকে অন্য দিকের মানুষটিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক প্রতারণা। কিন্তু কোনটি প্রেম, কোনটি ফাঁদ, বোঝা যাবে কীভাবে? সরাসরি টাকা চাওয়ার বদলে প্রতারকেরা অন্য রাস্তায় হাঁটছে। যার প্রথম শর্তই হল, কারও একাকিত্বের দিনগুলিতে ভরসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। প্রথমে যত্ন, পাশে থাকার অঙ্গীকার। বিশ্বাস-ভরসা অর্জনের পরেই তারা আসল কাজ সারছে।

ভুল হয় কোথায়, সতর্ক হবেন কীভাবে?

মনখারাপ, সম্পর্কের ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে কি সমাজ মাধ্যমকেই ভরসাযোগ্য মনে হয়। যে সব রিল বা ভিডিয়োর কথায় মনের মিল পান, সেগুলি কি ভাগ করে নেন? কোথায় ঘুরছেন, জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কাহিনি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন? সাইবার অপরাধীরা নিঃশব্দেই সে সব লক্ষ্য করে ‘টার্গেট’ খুঁজে নেয়। অজান্তেই পাতা হয়ে যায় ফাঁদ।

আরন বলছেন, ‘ব্যক্তিগত তথ্য, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিলে বিপদ হতে পারে। প্রতারকেরা তাদেরকেই বেছে নেন, যারা একাকিত্বে ভুগছেন, বিবাহবিচ্ছিন্ন বা জীবনে প্রেম খুঁজতে চাইছেন। শুধু আবেগপ্রবণ মানুষ নন, প্রতারকেরা চড়া সুদে বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির লোভ দেখিয়ে অনেক সময় অভিজ্ঞ, চালাক-চতুর লোকজনকেও বোকা বনিয়ে দেয়।’

প্রতারকেরা অনেক সময় ভুয়ো ছবি, পরিচয়ের ভেক ধরেও সম্পর্কে জড়ায়। দেখা করার কথা বললেই শুরু হয় অজুহাত।

কী কী দেখলে লাল সংকেত বুঝবেন?

প্রোফাইলের ছবি: ছবিটি অতিমাত্রায় নিখুঁত, মডেলদের মতো হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। ‘গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ’-এ দিয়ে দেখুন, অন্য কারও মুখের সঙ্গে মিল আছে কিনা।

পরিচয়ে অসঙ্গতি: প্রোফাইলে পুরোনো কোনও ইতিহাস বা সাধারণ পোস্ট থাকে না। কথা বলার সময় তাদের তথ্য বা কাজের বিবরণ বার বার বদলে যায়। কথাগুলো শুনতে সাজানো-গোছানো মনে হলেও বাস্তবে তথ্য যাচাই করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

ভালবাসার ‘নাটক’-এর পরে কৌশলে টাকা চাওয়া: সম্পর্কের একটা পর্যায়ে এসে তারা প্রয়োজনের কথা বলে, চিকিৎসার খরচ, আইনি সমস্যা বা যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে টাকা দেওয়ার অনুরোধ করে, যা সচরাচর অন্য মানুষটির পক্ষে এড়ানো সম্ভব হয় না।

দেখা করতে না চাওয়া: দেখা করার কথা বললে নানা রকম অজুহাত দেয় কি? কখনও বাড়ির সমস্যা, কখনও নেটওয়ার্কের সমস্যা বলে ভিডিয়ো কল এড়ায়। শেষ মুহূর্তে কাজ পড়ে গিয়েছে বলে এরা সাক্ষাৎ এড়ানোর চেষ্টা করে।

টাকা চাওয়ার পন্থা: টাকা দেওয়ার জন্য তারা গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ওয়্যার ট্রান্সফারের মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যম ব্যবহারের অনুরোধ করতে পারে।

উপহারের জন্য মাশুল: কোনও দামি উপহার, গয়না পাঠিয়েছে জানিয়ে কুরিয়ার ফি, কাস্টমস চার্জ বা রিলিজ ফি বাবদ টাকা পাঠানোর কথা বলতে পারে। এইভাবে কিছু টাকা হাতিয়ে নিতে পারে তারা।

মানসিক চাপ: যদি কোনও বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে বা পরিবারের সন্দেহকে গুরুত্ব দিতে অগ্রাহ্য করতে বলে বা বিশ্বাস করছ না বলে পাল্টা দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করে, তা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। এটি অন্য জনকে মানসিকভাবে কাবু করার চেষ্টা হতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার