বিজ্ঞাপন
দিনে ২ ঘণ্টা গিজার চালালে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ এএম
বিজ্ঞাপন
শীতের সকালে কনকনে ঠান্ডা পানিতে হাত দেওয়াই দায়! তাই এ সময়ে একটু স্বস্তির জন্য গরম পানি কেবল আরামের বিষয় নয়, প্রতিদিনের জরুরি প্রয়োজনেই পরিণত হয়। আর সেই চাহিদা মেটাতে ঘরে ঘরে গিজারের ব্যবহারও হু হু করে বেড়ে যায়।
তবে গরম পানির স্বস্তির সাথে সাথে কিন্তু পকেটের ওপরও একটা চাপ পড়ে! ঘরোয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে গিজার কিন্তু বেশ ভালো পরিমাণ বিদ্যুৎ টানে। তবে মাস শেষে গিজারের পেছনে কত টাকা খরচ হচ্ছে, তা হিসাব করা খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। আপনার গিজারটি কত 'ওয়াট'-এর এবং দিনে কতক্ষণ চালানো হচ্ছে—এই দুটো বিষয় জানা থাকলেই খরচের হিসাব বের করে ফেলা যায়।
গিজারের বিদ্যুৎ খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গিজারের গায়ে ‘ওয়াট’ (Watt) লেখা থাকে। এই ওয়াট দিয়েই বোঝা যায় যন্ত্রটি গরম করার সময় কতটুকু বিদ্যুৎ টানে। সাধারণত বাসা-বাড়ির গিজার ৫০০ থেকে ৫০০০ ওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। তবে আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত গিজারগুলো সাধারণত ১০০০ থেকে ২০০০০ ওয়াটের মধ্যেই থাকে।
ইনস্ট্যান্ট গিজার: এগুলো খুব দ্রুত পানি গরম করে, তাই এগুলোর ওয়াটেজ একটু বেশি হয় (প্রায় ৪৫০০ থেকে ৫০০০ ওয়াট)।
স্টোরেজ গিজার: এগুলো পানি জমিয়ে রেখে আস্তে আস্তে গরম করে, তাই ওয়াটেজ কিছুটা কম হয় (প্রায় ১৫০০ ওয়াটের মতো)।
গিজার কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করছে, তা বের করার একটি সহজ নিয়ম আছে:
মোট ব্যবহৃত বিদ্যুৎ (কিলোওয়াট-আওয়ার/ইউনিট) = গিজারের পাওয়ার (কিলোওয়াট) × প্রতিদিন ব্যবহারের সময় (ঘণ্টা)
সহজ একটি হিসাব দেখে নেওয়া যাক
ধরে নিন, আপনার ঘরের গিজারটি ২০০০ ওয়াট (অর্থাৎ ২ কিলোওয়াট)-এর। আর শীতের দিনে পরিবারের সবাই মিলে এটি গড়ে দিনে ২ ঘণ্টা চালানো হয়।
একদিনের খরচ: ২ কিলোওয়াট × ২ ঘণ্টা = ৪ ইউনিট (কিলোওয়াট-আওয়ার)
মাসের খরচ (৩০ দিনে): ৪ ইউনিট × ৩০ দিন = ১২০ ইউনিট
অর্থাৎ, ২ হাজার ওয়াটের একটি গিজার প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে চালালে মাসে প্রায় ১২০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে। এখন আপনার এলাকার বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম যত, সেই হিসেবে ১২০ দিয়ে গুণ করলেই পেয়ে যাবেন গিজার বাবদ আপনার মাসের আসল খরচের টাকা!
আনুমানিক একটা হিসাব
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা হলে, মাসে খরচ হবে প্রায় ৮৪০ টাকা।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা হলে, মাসে খরচ হবে প্রায় ৯৬০ টাকা।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা হলে, মাসে খরচ হবে প্রায় ১০৮০ টাকা।
ইনস্ট্যান্ট বনাম স্টোরেজ গিজার
ইনস্ট্যান্ট গিজারে কোনো পানির ট্যাঙ্ক থাকে না; সুইচ অন করলেই চটজলদি অল্প পানি গরম হয়ে যায়। কম সদস্যের পরিবার কিংবা হুটহাট অল্প পানির প্রয়োজনে এটি বেশ সুবিধাজনক। তবে এটি বেশি ওয়াটের হওয়ায় এবং বারবার চালু করতে হয় বলে এতে বিদ্যুৎ বিল কিছুটা বেশি আসে।
অন্যদিকে, স্টোরেজ গিজারে বড় একটি ট্যাঙ্ক থাকে, যেখানে একবারে অনেকখানি পানি গরম করে জমিয়ে রাখা যায়। যাদের পরিবার বড় কিংবা এক সঙ্গে অনেকের গরম পানি লাগে, তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী। অবাক করা বিষয় হলো, বড় পরিবারের ক্ষেত্রে স্টোরেজ গিজার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ ইনস্ট্যান্ট গিজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বা তারও কম হতে পারে!
যেসব কারণে গিজারের বিদ্যুৎ বিল লাফিয়ে বাড়ে
গিজার ব্যবহারের সময় কিছু ছোটখাটো বিষয় না খেয়াল করলে মাস শেষে বিদ্যুতের বিল দেখে চমকে যেতে হতে পারে। দেখে নিন খরচ বাড়ার মূল কারণগুলো:
ওয়াটেজ বা ক্ষমতা: বেশি ওয়াটের গিজারে পানি দ্রুত ফুটলেও তা সমপরিমাণ বেশি বিদ্যুৎ টানে।
বেশি সময় চালিয়ে রাখা: প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও গিজার অন থাকলে ফালতু বিদ্যুৎ অপচয় হয়। পানি গরম হয়ে গেলেই সুইচ বন্ধ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ট্যাঙ্কের সাইজ: ২৫ লিটারের মতো বড় স্টোরেজ গিজার গরম হতে ছোট গিজারের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ নেয়।
পানির তাপমাত্রা: তীব্র শীতে বরফশীতল পানি ফুটাতে গিজারকে বাড়তি কসরত করতে হয়, ফলে বিদ্যুৎ বেশি লাগে।
থার্মোস্ট্যাট সেটিং: গিজারের তাপমাত্রা ৬০-৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না রেখে ৫০-৫৫ ডিগ্রিতে সেট রাখাই যথেষ্ট। বেশি তাপমাত্রা দিয়ে রাখলে বিল হু হু করে বাড়ে।
ইনসুলেশন ব্যবস্থা: গিজারের গায়ে ভালো ইনসুলেশন বা তাপ নিরোধক স্তর থাকলে পানি অনেকক্ষণ গরম থাকে, ফলে বারবার সুইচ অন করতে হয় না।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ঘরে মানুষ বেশি হলে আর সারাদিনে বারবার গিজার চললে স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়বে।
ময়লা বা স্কেল জমা: দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে গিজারের ভেতরের রডে আয়রন বা খনিজ জমে আস্তরণ (স্কেল) পড়ে যায়। এতে পানি গরম হতে দেরি হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
এক নজরে শেষ কথা:
পরিবারের প্রয়োজন বুঝে সঠিক গিজার কেনা, অপ্রয়োজনে চালিয়ে না রাখা এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করানো—এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই শীতজুড়ে আরামদায়ক গরম পানি ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও রাখা সম্ভব হাতের নাগালে!