বিজ্ঞাপন
ডিম সেদ্ধ, পোচ নাকি ভাজা, কীভাবে খেলে পুষ্টি বেশি পাওয়া যায়?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার- ডিম অনেকের খাদ্যতালিকার নিয়মিত অংশ। সহজলভ্য এই খাবারে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, কোলিন, বিভিন্ন খনিজ ও প্রয়োজনীয় ফ্যাট।
তবে ডিম কীভাবে রান্না করে খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে খাবারটির মোট ক্যালোরি ও ফ্যাটের পরিমাণ। তাই সেদ্ধ, পোচ ও ওমলেটের মধ্যে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
সেদ্ধ ডিম: কম ক্যালোরিতে পুষ্টি
স্বাস্থ্যকর উপায়ে ডিম খেতে চাইলে সেদ্ধ ডিম হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। এতে আলাদা করে তেল, মাখন বা ঘি যোগ করার প্রয়োজন হয় না। ফলে ডিমের নিজস্ব ক্যালোরি ও ফ্যাটের পাশাপাশি প্রোটিনসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য সেদ্ধ ডিম সুবিধাজনক খাবার। ডিমের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে ডিমের পুষ্টি শরীর কতটা শোষণ করবে, তা শুধু রান্নার পদ্ধতি নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের অবস্থার ওপরও নির্ভর করে।
পোচ ডিম: তেল ছাড়াই পুষ্টি পাওয়ার উপায়
সেদ্ধ ডিমের পাশাপাশি পোচও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। সাধারণত পানিতে ডিম রান্না করে পোচ তৈরি করা হয়। এতে অতিরিক্ত তেল বা মাখনের প্রয়োজন হয় না। ফলে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও খাদ্যতালিকায় পোচ রাখা যায়।
তবে পোচ তৈরির সময় ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম পুরোপুরি রান্না হয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ডিমের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি কমাতে ভালোভাবে রান্না করা উচিত।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের আধা সেদ্ধ ডিম এড়িয়ে চলা ভালো।
ওমলেট: স্বাদের সঙ্গে বাড়তে পারে ক্যালোরি
পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা কিংবা অন্যান্য সবজি দিয়ে তৈরি ওমলেট অনেকেরই পছন্দের খাবার। এতে সবজি যোগ করলে খাদ্যতালিকায় বাড়তি পুষ্টিও যুক্ত হতে পারে।
তবে ওমলেট তৈরিতে কতটা তেল, মাখন বা ঘি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর এর মোট ক্যালোরি ও ফ্যাটের পরিমাণ নির্ভর করে।
অতিরিক্ত তেল বা মাখন দিয়ে ওমলেট তৈরি করলে খাবারে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেড়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে চাইলে অল্প তেলে ওমলেট তৈরি করা ভালো। পাশাপাশি পেঁয়াজ, টমেটো, ক্যাপসিকাম বা অন্যান্য সবজি যোগ করেও খাবারটিকে আরও পুষ্টিকর করা যায়।
তাহলে কোন পদ্ধতিতে ডিম খাওয়া ভালো?
ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ ও কম তেলে খাবার খাওয়ার লক্ষ্য থাকলে সেদ্ধ ডিম বা পানিতে রান্না করা পোচ ভালো পছন্দ। অন্যদিকে, পরিমিত তেলে তৈরি ওমলেটও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। ডিম বেশি আঁচে দীর্ঘ সময় রান্না না করাই ভালো।
মনে রাখতে হবে, সেদ্ধ ডিম সব ক্ষেত্রে অন্য পদ্ধতির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর- এমন নয়। রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী কিছু পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বদলাতে পারে। তবে তেল ও অতিরিক্ত চর্বি যোগ না করায় সেদ্ধ ডিম এবং পোচ সাধারণত কম ক্যালোরির বিকল্প।
তাই শুধু রান্নার ধরন নয়, ডিমের পরিমাণ, সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।