বিজ্ঞাপন
সন্তান না হওয়ার পেছনে কে দায়ী, গবেষণায় এলো নতুন তথ্য
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
সন্তান না হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় নারীকে। বিশেষ করে বয়স ৩৫ পেরিয়ে গেলে সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ও নানা মন্তব্য বাড়তে থাকে।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই বয়সের পর নারীর ডিম্বাণুর গুণগত মান দ্রুত কমতে শুরু করে। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
গবেষণাটি বলছে, নারীর ডিম্বাণুতে বয়সের প্রভাব নিয়ে প্রচলিত ধারণার কিছু দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণার ফল ২০২৫ সালে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ২২ বছর বয়সী নারী থেকে শুরু করে মধ্য চল্লিশের নারীদের ডিম্বাণু পরীক্ষা করা হয়।
এতে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর রক্ত ও লালারসে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএর মিউটেশন বাড়লেও ডিম্বাণুতে সেই প্রবণতা একইভাবে দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন বয়সের নারীর ডিম্বাণুতে মিউটেশনের মাত্রা প্রায় কাছাকাছি ছিল।
গবেষকদের এই পর্যবেক্ষণ প্রচলিত ধারণার সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, বেশি বয়সী নারীদের ডিম্বাণুতে মিউটেশনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হবে। কিন্তু পরীক্ষার ফল তেমনটি দেখায়নি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, নারীর বয়স বাড়লেও সন্তান ধারণের সক্ষমতা অপরিবর্তিত থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী, নারীর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে পারে।
বিশেষ করে ৩৫ বছরের পর উর্বরতা হ্রাসের প্রবণতা স্পষ্ট হয় এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই ডিম্বাণুতে নির্দিষ্ট ধরনের মিউটেশনের ফলাফল দিয়ে সামগ্রিক প্রজননক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না।
অন্যদিকে, পুরুষের বয়সের সঙ্গে প্রজননক্ষমতার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গুণগত মানে পরিবর্তন আসতে পারে।
পাশাপাশি শুক্রাণুর ডিএনএতে পরিবর্তন জমার ঝুঁকিও বাড়ে। এর প্রভাব গর্ভধারণের সময় এবং সন্তানের কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর কাক্সিয়াস ডো সুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুরুষের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে পৌঁছালে শুক্রাণুর গুণগত মানে অবনতি দেখা দিতে পারে।
সাধারণভাবে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সকে পুরুষের প্রজননের জন্য অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে। তবে ব্যক্তি ও শারীরিক অবস্থাভেদে এ পরিবর্তনের মাত্রা ভিন্ন হয়।
বয়সী বাবার ক্ষেত্রে সন্তানের কিছু স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বেশি বয়সী প্রত্যেক পুরুষের সন্তানের এমন সমস্যা হবে।
একইভাবে, শুধু বয়সের ভিত্তিতে কোনো দম্পতির সন্তান ধারণের সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ- উভয়ের বয়স এবং প্রজননস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সন্তান না হলে সামাজিকভাবে নারীকেই দায়ী করার প্রবণতা এখনো রয়েছে।
গবেষণার তথ্য মনে করিয়ে দেয়, প্রজননক্ষমতা একটি যৌথ বিষয়। তাই সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দিলে শুধু নারীর পরীক্ষা নয়, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যও মূল্যায়ন করা জরুরি।