Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

আজ বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম

আজ বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস

বিজ্ঞাপন

আজ বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস। জীবনে সফল হওয়ার পথে ব্যর্থতা আসবেই। কখনো নিজের ভুলে, কখনো পরিস্থিতির কারণে থেমে যেতে হয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর যাত্রা। তবে ব্যর্থতা মানেই সব শেষ নয়।

বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করার সুযোগও তৈরি হয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে এই দিবসটি।

ব্যর্থতাকে লজ্জা বা পরাজয় হিসেবে না দেখে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করাই এই দিবসের মূল বার্তা। কোনো কাজে সফল না হওয়া মানেই যে একজন মানুষ অযোগ্য, তা নয়। বরং চেষ্টা করার সাহস এবং ভুল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই পারে ভবিষ্যতের সাফল্যের পথ তৈরি করতে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস

বিশ্ব ব্যর্থতা দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে ফিনল্যান্ডে। দেশটির আলতো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেন। তাদের পর্যবেক্ষণ ছিল, ব্যর্থতার ভয় অনেক মানুষকে নতুন ব্যবসা কিংবা উদ্ভাবনী উদ্যোগ শুরু করা থেকে পিছিয়ে রাখছে।

এই ভয় কাটিয়ে মানুষকে নতুন কিছু করতে উৎসাহিত করতেই ব্যর্থতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণের বার্তা নিয়ে দিবসটি চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, ব্যর্থতাকে আড়াল না করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি ফিনল্যান্ডের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। ২০১২ সালের দিকে দিবসটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে।

ব্যর্থতা নয়, ভুল থেকে না শেখাই বড় বাধা

সমাজে সফলতার গল্প যতটা গুরুত্ব পায়, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা ততটা দেখা যায় না। অনেকেই নিজের ভুল কিংবা কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়ার কথা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন।

অথচ নতুন কিছু শেখা, দক্ষতা বাড়ানো কিংবা ভিন্নভাবে কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সফল মানুষের জীবনেও ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা থাকে। তাঁদের অনেকের সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিকবার চেষ্টা করা, ভুল শনাক্ত করা এবং আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ইতিহাস। তাই একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেই নিজের সামর্থ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তী সিদ্ধান্তকে আরও বাস্তবসম্মত করতে পারে। একই ভুল যেন বারবার না হয়, সে জন্য নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করাও জরুরি।

কীভাবে পালন করা যায় দিনটি

বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস পালনের অন্যতম উপায় হলো নিজের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের ভুল ও তা থেকে পাওয়া শিক্ষা ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। এতে ব্যর্থতা নিয়ে অস্বস্তি কমার পাশাপাশি অন্যের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার সুযোগ তৈরি হয়।

কিছু জায়গায় এ উপলক্ষে ‘ফেল ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

আবার কোথাও কর্মশালা কিংবা ‘ফ্লপ ফিল্ম নাইট’-এর আয়োজন করা হয়, যেখানে ব্যর্থ উদ্যোগ বা কম সফল সিনেমা নিয়ে আলোচনা করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনেও দিনটি উপলক্ষে একটি সহজ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অতীতে যে কাজটি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, সেটি নিয়ে ভাবুন। কোথায় ভুল হয়েছিল, কী শেখা গেছে এবং আবার সুযোগ পেলে কীভাবে কাজটি করা যায়- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করুন।

বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি প্রচেষ্টার ফলাফল প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে। কিন্তু একটি ব্যর্থতা দিয়ে পুরো জীবনকে বিচার করা যায় না।

ভুল স্বীকার করা, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং আবার চেষ্টা করার মানসিকতাই মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার