বিজ্ঞাপন
যে ৫ বাজে অভ্যাসে আপনি ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীর ভারী লাগে? সারাদিন ঝিমুনি, কাজে মনোযোগের অভাব কিংবা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো সমস্যা হচ্ছে?
এমনটা মাঝেমধ্যে হলে দুশ্চিন্তার কারণ নাও থাকতে পারে। তবে নিয়মিত এমন হলে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেই যে শরীর সতেজ থাকবে, তা নয়। ঘুমের মান, খাবারের ধরন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শারীরিক সক্রিয়তার মতো বিষয়ও শরীরের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি অভ্যাস অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে ক্লান্তি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি অভ্যাস সম্পর্কে।
১. ঘুমানোর আগে দীর্ঘক্ষণ ফোন দেখা
ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, রিল দেখা কিংবা গেম খেলা অনেকের নিয়মিত অভ্যাস।
কিন্তু এই অভ্যাস ঘুমের সময় পিছিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ফোনের উজ্জ্বল আলো এবং মানসিক উত্তেজনা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ফলে পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটানোর পরও ঘুমের মান ভালো নাও হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি অনুভব করার পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে।
২. সময়মতো খাবার না খাওয়া
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে দুর্বলতা ও অবসাদ অনুভূত হতে পারে। আবার মিষ্টি খাবার বা চিনিযুক্ত স্ন্যাকসের ওপর নির্ভর করলে সাময়িকভাবে শক্তি পেলেও পরে আবার ক্লান্ত লাগতে পারে।
শরীরের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখার চেষ্টা করুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা
শরীরে পানির ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে দীর্ঘ সময় কাজ করলে অনেকেই তৃষ্ণা কম অনুভব করেন এবং পানি পান করার কথাও ভুলে যান। তাই তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পাশাপাশি চিনি ছাড়া লেবুপানি বা ডাবের পানিও পান করতে পারেন। তবে পানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা ভালো।
৪. দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা
অফিসে কিংবা বাসায় কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যায়। এতে পেশিতে অস্বস্তি, শরীর শক্ত হয়ে থাকা এবং অবসাদ অনুভব হতে পারে।
একটানা বসে না থেকে প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর কিছুক্ষণ দাঁড়ানো, হাঁটাহাঁটি করা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করার চেষ্টা করুন। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শরীর সচল রাখতে এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৫. অতিরিক্ত চা-কফি পান করা
কাজের চাপ কিংবা ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সজাগ থাকতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে এবং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে।
বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি পান করলে রাতে ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিজের ঘুমের ধরন বুঝে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমান এবং ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে এটি এড়িয়ে চলুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের পরও যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি না কমে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক হবে না। রক্তস্বল্পতা, আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
শুধু ক্লান্তি হচ্ছে বলে নিজে থেকে ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।