Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

বিজ্ঞাপন

ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে।

ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন।

মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।

প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী?

ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে।

ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে।

ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়।

কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়।

ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর

ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে।

ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।

ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি

মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল।

মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার