Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন একের পর এক কাপ কফি পান করার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে। প্রায় ১০ হাজার বয়স্ক নারীকে ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে করা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পানকারীদের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে নিয়মিত চা পানকারীদের নিতম্বের হাড়ের ঘনত্ব সামান্য বেশি পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৭০৪ নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফল পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কফি ও চা পানের অভ্যাস বারবার নথিবদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে তাদের ফিমোরাল নেক ও টোটাল হিপের বোন মিনারেল ডেনসিটি বা হাড়ের খনিজ ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত চা পানকারীদের টোটাল হিপ বোন মিনারেল ডেনসিটি চা না পানকারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি। পার্থক্যটি খুব বড় নয়, তবে পরিসংখ্যানগতভাবে তা উল্লেখযোগ্য ছিল।

কফির ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সামগ্রিকভাবে মাঝারি পরিমাণ কফি পানের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে গবেষণার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পান করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে।

বিশেষ করে যেসব নারীর জীবনে অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল, তাদের মধ্যে বেশি কফি পানের সঙ্গে ফিমোরাল নেকের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার সম্পর্ক আরও স্পষ্ট দেখা গেছে।

এ কারণে গবেষকেরা মাঝারি কফি পানকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করেননি। দিনে দুই থেকে তিন কাপ কফির মতো পরিমাণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি। ঝুঁকির ইঙ্গিত মূলত খুব বেশি কফি পানের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।

গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি প্রমাণ করে না যে বেশি কফি খেলেই হাড় দুর্বল হয়ে যাবে। এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। অর্থাৎ কফি ও হাড়ের ঘনত্বের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও সরাসরি কারণ ও ফলাফল নিশ্চিত করা যায়নি।

গবেষকেরা বয়স, শারীরিক কার্যক্রম, বিভিন্ন রোগ, ওষুধ ব্যবহার এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রভাবক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তবু মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শরীরের ওজন এবং অন্যান্য বিষয়ও হাড়ের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে।

চায়ের ক্ষেত্রে গবেষকেরা মনে করছেন, এতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ হাড়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঠিক কোন উপাদান কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ বয়স্ক নারীদের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি তিন নারীর একজন জীবনের কোনো পর্যায়ে অস্টিওপোরোসিসজনিত ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিতে থাকেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। মেনোপজের পর নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ কারণে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হাড় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার ফল থেকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বার্তা হলো, যারা খুব বেশি কফি পান করেন তারা দৈনিক পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে পারেন। তবে শুধু কফি কমানোই হাড় সুরক্ষার একমাত্র উপায় নয়।

একই সঙ্গে নিয়মিত চা পান হাড়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারী হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে গবেষকেরা চাকে কোনো চিকিৎসা বা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না।

সব মিলিয়ে ১০ বছরের এই গবেষণা বলছে, মাঝারি পরিমাণ কফি পান নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি অভ্যাসে থাকলে বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার