বিজ্ঞাপন
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
বিজ্ঞাপন
সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘমেয়াদে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সন্তান জন্মের পর কয়েক বছর এই রোগের ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে বদলায়।
সন্তান জন্মের পর ঝুঁকি কতটা বাড়বে এবং কত দিন থাকবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ক্যানসারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
২০১৮ সালে প্রকাশিত ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের আপেক্ষিক ঝুঁকি সন্তান জন্ম না দেওয়া নারীদের তুলনায় প্রসবের প্রায় পাঁচ বছর পর সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই গবেষণায় ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় বয়স বেশি হলে এবং স্তন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকির বৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। এই ফল কোনো ব্যক্তির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।
অন্যদিকে, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্তন্যদানের সময় মাসিক চক্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরের নিজস্ব কিছু হরমোনের সংস্পর্শও কমে। এটি সুরক্ষামূলক প্রভাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে বুকের দুধ খাওয়ালেই স্তন ক্যানসার হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।
গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার বিরল। কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় স্তন বড় হওয়া, ভারী লাগা বা টিস্যুর পরিবর্তনের কারণে সন্দেহজনক গুটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, এসব স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই স্তনে বা বগলে নতুন গুটি, স্থায়ী শক্ত অংশ, ত্বকে টোল পড়া, স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বুকের দুধ ছাড়া অন্য ধরনের নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ স্তনের পরিবর্তন ক্যানসার নয়। তবু কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু গর্ভাবস্থা বা দুধ জমার ফল ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিত নয়।