বিজ্ঞাপন
আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ কখন খাবেন! জানুন সঠিক সময় ও নিয়ম
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
আয়রন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২—শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পুষ্টি উপাদান। তবে এসবের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কোনটি খাবেন তা নয়, কীভাবে ও কখন খাবেন সেটিও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ‘সেরা সময়’ সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময় নয়; বরং খাবার, পানীয় ও অন্য ওষুধের সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার বিশেষ উপকারের প্রমাণ খুব কম। ৮৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদ্রোগ, ক্যানসার বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ দীর্ঘদিন গ্রহণের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার ভিটামিন এ-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন শরীরে জমে গিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
তবে রক্ত পরীক্ষায় কোনো পুষ্টির ঘাটতি ধরা পড়লে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থার আগে ও শুরুর সময়ে ফলিক অ্যাসিড, খাবার থেকে পর্যাপ্ত বি১২ পাওয়া সম্ভব না হলে ভিটামিন বি১২ এবং শরতে ও শীতে ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ রয়েছে।
আয়রন: খাওয়ার নিয়ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
আয়রনের সাপ্লিমেন্ট সাধারণত আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু ক্লান্ত লাগছে বলেই নিজের ইচ্ছায় আয়রন খাওয়া ঠিক নয়। কারণ আয়রনের ঘাটতির পেছনে রক্তক্ষরণ বা শরীরে আয়রন শোষণে সমস্যা থাকতে পারে। তাই ঘাটতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর কারণও খুঁজে দেখা জরুরি।
আয়রন খাওয়ার ক্ষেত্রে খাবার ও পানীয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, পানির বদলে কফির সঙ্গে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিলে আয়রন শোষণ ৫৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। সকালের নাশতার সঙ্গে নিলে শোষণ আরও কমেছিল।
অন্যদিকে, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আয়রন শোষণ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারে বলে ওই গবেষণায় দেখা যায়। তবে ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি নিলে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাওয়া যায়নি। গবেষণাটিতে সকালে আয়রন গ্রহণ করলে বিকেলের তুলনায় শোষণ কিছুটা বেশি হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তবে পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। তাই শুধু এই ফলাফলের ভিত্তিতে সকালে আয়রন খাওয়াকে বাধ্যতামূলক নিয়ম বলা যায় না।
সাধারণভাবে খালি পেটে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। কিন্তু এতে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই খালি পেটে খেলে সমস্যা হলে খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পর গ্রহণ করা যেতে পারে। আয়রনের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালসিয়ামও একসঙ্গে গ্রহণ করলে আয়রন শোষণ কিছুটা কমাতে পারে, বিশেষ করে বেশি পরিমাণে নিলে। তাই আয়রন ও ক্যালসিয়াম দুটোই খাওয়ার পরামর্শ থাকলে কতক্ষণ ব্যবধানে খাবেন, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
ভিটামিন ডি: খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা ভালো
ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন। গবেষণায় দেখা গেছে, চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন ডি৩ গ্রহণ করলে চর্বিহীন খাবারের তুলনায় শরীরে এটি ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।
তাই ভিটামিন ডি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল সাধারণত দিনের প্রধান খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা সুবিধাজনক। তবে গবেষণায় সকালের নাশতা দুপুর বা রাতের খাবারের চেয়ে ভালো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময়ের চেয়ে খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ওষুধ ভিটামিন ডি শরীরে শোষণ বা ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ওজন কমানোর ওষুধ অরলিস্ট্যাট এবং প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত কিছু কর্টিকোস্টেরয়েড। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে শুধু সাপ্লিমেন্টের সময় পরিবর্তন না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
ভিটামিন বি১২: সময়ের চেয়ে কারণ গুরুত্বপূর্ণ
ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মূলত প্রাণিজ খাবার ও বি১২ সমৃদ্ধ খাবার থেকে পাওয়া যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাণিজ খাবার খান না এবং বি১২ সাপ্লিমেন্টও নেন না, তাদের শরীরে বি১২-এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তাদের রক্তে বি১২-এর মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোর উন্নতি দেখা গেছে।
বি১২ সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে কেন সাপ্লিমেন্টটি প্রয়োজন হচ্ছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মেটফরমিন এবং ওমিপ্রাজলের মতো পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারে বি১২ শোষণ বা শরীরে এর মাত্রা কমাতে পারে। শুধু ওষুধ ও বি১২ আলাদা সময়ে খেলেই এ প্রভাব ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শে সায়ানোকোবালামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করলে কিছু ক্ষেত্রে খালি পেটে খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে প্রেসক্রিপশন বা প্যাকেটের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।
সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে যা মনে রাখবেন
কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে প্রথমেই ভাবতে হবে, সেটি আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। একই উপাদান একাধিক পণ্যে আছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। মাল্টিভিটামিন, এনার্জি ড্রিংক বা বিভিন্ন ‘ওয়েলনেস’ পাউডারে একই ভিটামিন বা মিনারেল থাকতে পারে।
আপনি যদি নিয়মিত কোনো প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খান, তাহলে সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ওষুধের পারস্পরিক প্রভাব বা কতটা ব্যবধান রাখা দরকার, তা ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
সবশেষে, সব সাপ্লিমেন্টের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যেখানে খাবার বা পানীয় শোষণে প্রভাব ফেলে, সেখানে সেটি বিবেচনা করা দরকার। আর যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বাড়তি সুবিধার প্রমাণ নেই, সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সময় বেছে নেওয়াই ভালো, যখন নিয়মিত খাওয়ার কথা মনে থাকে।