Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে স্ট্রোকের হার, বলছে গবেষণা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে স্ট্রোকের হার, বলছে গবেষণা

বিজ্ঞাপন

তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার গত প্রায় তিন দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার কমেছে।

গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয়টি সময়পর্বের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭৬টি প্রথমবারের স্ট্রোকের ঘটনা শনাক্ত করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, তরুণদের মধ্যে প্রতি ১ লাখ মানুষের হিসাবে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। এই বৃদ্ধি মূলত ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে হয়েছে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে।

ইস্কেমিক স্ট্রোকের হারও এই সময়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে এ ধরনের স্ট্রোকের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮টি, যা ২০২০ সালে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কয়েক ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

গবেষণায় তরুণ বয়সে স্ট্রোক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকটি প্রচলিত ঝুঁকিও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের ব্যবহার—সবকটির হার বেড়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। স্ট্রোক হওয়া তরুণদের মধ্যে নথিভুক্ত পদার্থ ব্যবহারের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির বড় অংশের সঙ্গে গাঁজা ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই গবেষণা থেকে গাঁজা ব্যবহারই স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড রবিনসন বলেছেন, গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজার ব্যবহার অনেক বেড়েছে এবং বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের সম্পর্ক থাকার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও কঠোর ও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

গবেষকেরা বলছেন, তরুণ বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় অবশ্য একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। তরুণদের স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসার উন্নতির কারণে আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোকের পর বেঁচে থাকছেন।

তবে বেশি মানুষ বেঁচে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অক্ষমতা বা অন্যান্য জটিলতা নিয়ে জীবনযাপনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে—স্ট্রোক হয়নি এমন মানুষের মধ্যে একই ঝুঁকিগুলোর তুলনামূলক তথ্য না থাকায় এসব ঝুঁকি স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার