Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

ঘরে মানি প্ল্যান্ট রাখলে কি সত্যিই টাকা আসে?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

ঘরে মানি প্ল্যান্ট রাখলে কি সত্যিই টাকা আসে?

বিজ্ঞাপন

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই পছন্দ করেন মানি প্ল্যান্ট। বসার ঘরের এক কোণ, পড়ার টেবিল কিংবা বারান্দা- প্রায় যেকোনো জায়গাতেই সহজে মানিয়ে যায় এই গাছ। খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। কিন্তু গাছটির নাম কেন ‘মানি প্ল্যান্ট’, কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

সত্যিই কি এই গাছ বাড়িতে রাখলে অর্থ-সম্পদ বাড়ে, নাকি নামটির পেছনে রয়েছে লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির গল্প?

মানি প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Epipremnum aureum’। তবে বিশ্বজুড়েই এটি ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামে বেশি পরিচিত। এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, লোককথা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির বিশ্বাস।

মানি প্ল্যান্টের নামকরণ নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি চীনা লোককথায় পাওয়া যায়। কথিত আছে, এক দরিদ্র ব্যক্তি আর্থিক সংকটের সময় অর্থের জন্য প্রার্থনা করছিলেন। একদিন তিনি একটি বিশেষ ধরনের গাছ দেখতে পান। পরে সেটি বাড়িতে এনে যত্ন নিতে শুরু করেন।

গাছটি দ্রুত বেড়ে ওঠায় এর চারা ও ফলন বিক্রি করে তিনি আয় করতে থাকেন। একসময় তার আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন আসে। সেই গল্প থেকেই গাছটিকে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখার প্রচলন তৈরি হয়।

চীনের ফেংশুই এবং ভারতের বাস্তুশাস্ত্রেও মানি প্ল্যান্টকে শুভ বলে মনে করা হয়। ফেংশুই মতে, গাছটির গোল ও মসৃণ পাতাকে অনেকটা মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এই গাছ রাখলে ইতিবাচক শক্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি আসে- এমন বিশ্বাস রয়েছে।

অন্যদিকে, বাস্তুশাস্ত্রের ধারণা অনুযায়ী, মানি প্ল্যান্ট ঘরের নেতিবাচক প্রভাব দূর করে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়।

তবে এসব বিশ্বাসের বাইরে মানি প্ল্যান্টের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এর সহজে বেড়ে ওঠার ক্ষমতাও। মাটি বা পানিতে- দুইভাবেই এটি চাষ করা যায়।

কম আলো এবং তুলনামূলক কম যত্নেও গাছটি বেশ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ফলে সহজে বংশবৃদ্ধি করার এই বৈশিষ্ট্যও হয়তো ‘অর্থ বাড়ার’ ধারণার সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত হয়েছে।

অর্থাৎ, মানি প্ল্যান্ট ঘরে রাখলেই যে টাকা-পয়সা বাড়বে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে অল্প যত্নে দ্রুত বেড়ে ওঠা এই সবুজ গাছ ঘরের সৌন্দর্য ও সতেজতা বাড়াতে যে বেশ কার্যকর, তা বলাই যায়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার