Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

বারবার পিপাসা ও প্রস্রাবের চাপ, শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে যে রোগ

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

বারবার পিপাসা ও প্রস্রাবের চাপ, শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে যে রোগ

বিজ্ঞাপন

বারবার পানি খেতে ইচ্ছা করা, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া কিংবা রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে এসব লক্ষণ কখনো কখনো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এর মধ্যে একটি বিরল রোগ হলো ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস সাধারণ ডায়াবেটিস বা টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো নয়। দুটি রোগের নামের মধ্যে ‘ডায়াবেটিস’ শব্দটি থাকলেও তাদের কারণ ও চিকিৎসা আলাদা।

ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস কী?

ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস একটি বিরল হরমোনজনিত সমস্যা। এতে শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং কিডনি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।

এ রোগে ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোনের ঘাটতি হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শরীরে হরমোন পর্যাপ্ত থাকলেও কিডনি সেটির প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয় না।

প্রধান লক্ষণ কী?

ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি লক্ষণ হলো অতিরিক্ত প্রস্রাব এবং তীব্র পিপাসা।রোগীর দিনে ও রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে।সাধারণত প্রস্রাবের পরিমাণও অনেক বেশি হয় এবং প্রস্রাব বেশ হালকা বা পানির মতো হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ২০ লিটার পর্যন্ত প্রস্রাব হতে পারে।

এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রোগীর বারবার পানি খেতে ইচ্ছা করে। অনেক সময় প্রচুর পানি পান করার পরও পিপাসার অনুভূতি পুরোপুরি কমে না।রাতে বারবার প্রস্রাব ও পানি পান করতে গিয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে ক্লান্তি ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কেন হয়?

ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের কারণ একাধিক হতে পারে।মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা, মাথায় গুরুতর আঘাত, মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার, কিছু টিউমার, প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে ভ্যাসোপ্রেসিনের ঘাটতি হতে পারে।

অন্যদিকে কিডনি ভ্যাসোপ্রেসিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া না দিলেও এ সমস্যা হতে পারে। কিছু ওষুধ, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি হওয়া, পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কিছু কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

সাধারণ ডায়াবেটিসের সঙ্গেও মিল রয়েছে

বারবার পিপাসা ও প্রস্রাব হওয়া শুধু ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের লক্ষণ নয়। টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব ও অতিরিক্ত পিপাসা হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস জানতে চান। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।রক্তে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা এবং প্রস্রাব কতটা পাতলা বা ঘন তা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওয়াটার ডিপ্রাইভেশন টেস্ট করা হয়। এ পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময় তরল গ্রহণ বন্ধ রেখে শরীরের ওজন, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রক্ত ও প্রস্রাবের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থিতে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখতে এমআরআই করা হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন ও কারণের ওপর।কেন্দ্রীয় ধরনের ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে শরীরে কমে যাওয়া হরমোনের বিকল্প হিসেবে ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার করা হতে পারে। এটি ট্যাবলেট, নাকের স্প্রে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায়।কিডনি ভ্যাসোপ্রেসিনে সাড়া না দিলে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়। কারণ অনুযায়ী ওষুধ পরিবর্তন, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, খাদ্যে লবণ ও প্রোটিন কমানো কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।

পানিশূন্যতা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে অতিরিক্ত প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর পানিশূন্যতা জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

স্বাভাবিকের তুলনায় হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে গেলে, সারাক্ষণ পিপাসা লাগলে, রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে গেলে কিংবা প্রচুর পানি পান করেও পিপাসা কম না হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।কারণ এসব লক্ষণের পেছনে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ছাড়াও ডায়াবেটিস মেলিটাসসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই নিজে থেকে কোনো হরমোন বা ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার