Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

অস্বাভাবিক হারে চুল পড়ে যাচ্ছে, যে ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

অস্বাভাবিক হারে চুল পড়ে যাচ্ছে, যে ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত

বিজ্ঞাপন

অ্যালোপেশিয়া কী?

আমাদের প্রতিদিন স্বাভাবিক নিয়মেই ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে যায়। কিন্তু যখন এই স্বাভাবিক হারের চেয়ে অনেক বেশি চুল পড়তে শুরু করে এবং সে অনুপাতে নতুন চুল গজায় না, তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অ্যালোপেশিয়া বলা হয়।

এটি মূলত এক ধরণের চুল পড়ার মারাত্মক সমস্যা, যা বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে নারী, পুরুষ এমনকি শিশুদেরও হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন।

উদাহরণস্বরূপ, সত্তর বছর বয়সী নারীদের অন্তত ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রেই মাথার সামনের অংশের চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা দেখা যায়।

কীভাবে বুঝবেন আপনার অ্যালোপেশিয়া হয়েছে?

সাধারণ চুল পড়ার সাথে অ্যালোপেশিয়ার কিছু স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। নিচে লক্ষণগুলো হলো:

হঠাৎ চুল ঝরে যাওয়া: স্বাস্থ্যবান মানুষের মাথা বা শরীরের চুল হঠাৎ এবং ধারাবাহিকভাবে পড়তে শুরু করে।

খালি জায়গা বা প্যাচ তৈরি হওয়া: মাথার এক বা একাধিক জায়গায় ১ থেকে ৫ সেন্টিমিটার এলাকার চুল একসাথে হুট করে ফাঁকা হয়ে যায়।

পুরো শরীর প্রভাবিত হওয়া: কখনো কখনো শুধু মাথা নয়, ভুরু, চোখের পাপড়ি কিংবা সম্পূর্ণ শরীরের লোমও ঝরে যেতে পারে।

দৈনন্দিন আলামত: চিরুনি ভরতি চুল উঠে আসা, বিছানা বা বালিশে প্রচুর ঝরে যাওয়া চুল দেখতে পাওয়া এর প্রাথমিক লক্ষণ।

কেন হয় এই রোগ?

চুল পড়ার সমস্যা সাময়িক বা স্থায়ী- উভয়ই হতে পারে। এটি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণে ঘটে থাকে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বংশগত বা জিনেটিক কারণ (প্রতি ৫ জনে ১ জনের পরিবারে এই সমস্যা থাকে)।
  • দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা বা শরীরে পুষ্টির ঘাটতি।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ ও বিষাদ।
  • শরীরে আয়রন, প্রোটিন এবং ভিটামিন (বিশেষ করে বি ও ডি) এর অভাব।
  • হঠাৎ করে অনেক বেশি ওজন হ্রাস পাওয়া।
  • কোভিডে আক্রান্ত হওয়া কিংবা ক্যান্সারের চিকিৎসা নেওয়া।
  • মাথায় খুশকি বা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও এটি হতে পারে।

চিকিৎসা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অ্যালোপেশিয়ার কোনো রাতারাতি বা স্থায়ী জাদু-সমাধান নেই।

কারণ নির্ণয়: সবার আগে কোন সুনির্দিষ্ট কারণে চুল পড়ছে (যেমন পুষ্টির অভাব বা অসুস্থতা) তা চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য: চুল পড়ার কারণে অনেকেই বিশেষ করে নারীরা সামাজিক হেনস্থা ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। তাই সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ মোকাবেলা করা এবং আত্মবিশ্বাসী থাকা অত্যন্ত জরুরি।

অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিনাস ছাড়াও হঠাৎ করে আক্রান্ত জায়গায় নিজে থেকেই নতুন চুল গজাতে শুরু করতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার