Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

যেসব লক্ষণে বুঝবেন জরায়ুর মুখ ক্যানসার, কেনহয়, প্রতিকারে কী করবেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ এএম

যেসব লক্ষণে বুঝবেন জরায়ুর মুখ ক্যানসার, কেনহয়, প্রতিকারে কী করবেন

বিজ্ঞাপন

শরীর আমাদের প্রতিনিয়ত নানা সংকেত দেয়, যার অনেকগুলোই আমরা সাধারণ ক্লান্তি বা সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু নারীদের প্রজননতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কিছু স্বাস্থ্য জটিলতা সম্পর্কে সময়মতো সচেতন না হলে তা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। 

তেমনই একটি রোগ হলো এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার বা জরায়ুর ভেতরের স্তরের ক্যানসার। এটি বিশ্বজুড়ে নারীদের প্রজনন অঙ্গের অন্যতম সাধারণ একটি ক্যানসার, যা মূলত সঠিক সময়ে সচেতন হলে নিরাময় সম্ভব। 

এই রোগটি আসলে কী, এর লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। 

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার আসলে কী?

সহজ কথায়, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার শুরু হয় জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ বা এন্ডোমেট্রিয়াম থেকে। 

জরায়ু হলো সেই অঙ্গ যেখানে গর্ভাবস্থায় শিশু বড় হয়, আর এর ভেতরের আস্তরণটি প্রতি মাসে ঋতুচক্রের সময় ঘন হয় এবং মাসিকের মাধ্যমে ঝরে পড়ে। এই স্তরের কোষগুলো যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে এবং টিউমারের রূপ নেয়, তখন তাকে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার বলা হয়। 

এই রোগটিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:

টাইপ ১: এটি হরমোন ইস্ট্রোজেনের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত, ধীরে বাড়ে এবং সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে। 

টাইপ ২: এটি তুলনামূলক কম দেখা যায়, ইস্ট্রোজেনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আশার কথা হলো, এই ক্যানসার সাধারণত প্রাথমিক অবস্থাতেই কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশ করে। ফলে রোগটি জরায়ুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকাকালীন চিকিৎসকরা এটি সনাক্ত করতে পারেন, যা চিকিৎসার কার্যকারিতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

প্রধান লক্ষণসমূহ: যেগুলোতে সতর্ক হওয়া জরুরি

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রথম সতর্কবার্তা হলো অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত বা ব্লিডিং।

মেনোপজের পর রক্তপাত: যেসব নারীর মেনোপজ (মাসিক চিরতরে বন্ধ হওয়া) হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে সামান্য রক্তপাত হওয়াও অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগের বিষয়। এটি অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। 

মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা অতিরিক্ত রক্তপাত: যাদের এখনো মাসিক বন্ধ হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে দুই মাসিকের মাঝে রক্তপাত হওয়া বা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ভারী ও দীর্ঘস্থায়ী মাসিক হওয়া। 

অস্বাভাবিক স্রাব: দুর্গন্ধযুক্ত, জলীয় বা রক্তমিশ্রিত যোনিস্রাব। 

শ্রোণি অঞ্চলে বা তলপেটে ব্যথা এবং সহবাসের সময় ব্যথা অনুভব করা।

মনে রাখা জরুরি, অস্বাভাবিক রক্তপাতের পেছনে ফাইব্রয়েড, পলিপ বা হরমোনজনিত পরিবর্তনের মতো সাধারণ ও ক্যানসারবিহীন কারণও থাকতে পারে। তাই এর অর্থ এই নয় যে আপনার ক্যানসার হয়েছে, তবে কারণটি নিশ্চিত করতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ঝুঁকির কারণ ও কাদের ঝুঁকি বেশি?

যদিও সঠিক কারণ সবসময় স্পষ্ট নয়, তবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়: 

বয়স: সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সি নারীদের বা মেনোপজের পর এই রোগ বেশি হয়। 

স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা এই ক্যানসারের অন্যতম বড় ঝুঁকি। 

হরমোনজনিত কারণ: অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া, দেরিতে মেনোপজ হওয়া, কখনো গর্ভধারণ না করা কিংবা শুধুমাত্র ইস্ট্রোজেন হরমোন থেরাপি নেওয়া। 

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) ও ডায়াবেটিস। 

বংশগত কারণ: যেমন লিন্চ সিন্ড্রোম, যা পরিবারে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে, গর্ভাবস্থা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা 

অস্বাভাবিক রক্তপাত বা লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকরা সাধারণত কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করেন:

১. ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড: বিশেষ প্রোবের সাহায্যে জরায়ুর ভেতরের স্তরের পুরুত্ব মাপা হয়।

২. এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসি: জরায়ুর আস্তরণ থেকে ছোট্ট টিস্যু নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করা।

৩. হিস্ট্রোস্কোপি বা ডিএন্ডসি: প্রয়োজনে জরায়ুর ভেতর সরাসরি পর্যবেক্ষণ বা টিস্যু সংগ্রহের জন্য এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি 

রোগের পর্যায় ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

অস্ত্রোপচার: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জরায়ু, ওভারি ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। 

রেডিয়েশন থেরাপি ও কেমোথেরাপি: ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে এবং তা পুনরায় ফিরে আসা রোধ করতে। 

হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি: আধুনিক চিকিৎসায় এগুলোর সাহায্যও নেওয়া হয়। 

শেষ কথা 

যেকোনো ক্যানসারের ক্ষেত্রেই সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া জীবন বাঁচাতে পারে। মেনোপজের পরের সামান্য রক্তপাত কিংবা মাসিকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন—কোনো কিছুই এড়িয়ে যাবেন না। শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক সঙ্কেত পেলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন। 

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার