Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

নীরবঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, যে ১০ লক্ষণ ভুলেও উপেক্ষা করবেন না

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

নীরবঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, যে ১০ লক্ষণ ভুলেও উপেক্ষা করবেন না

বিজ্ঞাপন

সুগার কিংবা রক্তচাপের মতো থাইরয়েডের সমস্যাও এখন বেশ পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি হলেও পুরুষরাও আক্রান্ত হতে পারেন। 

থাইরয়েড হরমোনের অতিসক্রিয়তা ও কম সক্রিয়তাকে যথাক্রমে হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। দীর্ঘদিনের থাইরয়েড সমস্যার পাশাপাশি এ গ্রন্থিতে টিউমারও হতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

থাইরয়েড ক্যানসার হলো থাইরয়েড গ্রন্থির কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। প্রজাপতির আকৃতির এই গ্রন্থি ঘাড়ের নিচের অংশে অবস্থিত এবং হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা হরমোন তৈরি করে। প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড ক্যানসারে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে টিউমার বড় হলে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

যে ১০ লক্ষণ উপেক্ষা নয়

১. ঘাড়ে গাঁট বা ফোলা: ঘাড়ের নিচের অংশে অনুভব করা বা দেখা যায় এমন গাঁট থাইরয়েড ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। তবে ঘাড়ের সব গাঁট ক্যানসারজনিত নয়।

২. গিলতে সমস্যা: থাইরয়েডের পেছনের দিকে থাকা টিউমার খাদ্যনালিতে চাপ সৃষ্টি করলে গিলতে অসুবিধা হতে পারে। গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতিও হতে পারে।

৩. ঘাড়ে ব্যথা বা অস্বস্তি: থাইরয়েডে টিউমার বড় হলে ঘাড়ে ব্যথা, চাপ বা টানটান অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

৪. কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন কণ্ঠস্বর কর্কশ বা শ্বাসমিশ্রিত হয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বড় টিউমার স্বরযন্ত্রের তারে প্রভাব ফেলতে পারে।

৫. শ্বাসকষ্ট: বড় টিউমার শ্বাসনালিতে চাপ সৃষ্টি করলে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।

৬. দীর্ঘস্থায়ী কাশি: দীর্ঘদিন কাশি থাকা, বিশেষ করে অন্য কোনো কারণ না থাকলে, থাইরয়েডের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৭. লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া: থাইরয়েড ক্যানসার আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।

৮. দ্রুত ওজন কমে যাওয়া: উন্নত পর্যায়ের থাইরয়েড ক্যানসারে অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যেতে পারে।

৯. ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা: রোগের অগ্রসর পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ক্ষুধা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

১০. জ্বর: কিছু ক্ষেত্রে উন্নত পর্যায়ের থাইরয়েড ক্যানসারে জ্বরও দেখা দিতে পারে।

কারণ

থাইরয়েড ক্যানসারের সঠিক কারণ সব ক্ষেত্রে জানা যায় না। তবে বিকিরণের সংস্পর্শ, কম আয়োডিন গ্রহণ, পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস, স্থূলতা, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের জন্য রেডিয়েশন থেরাপি, থাইরয়েডাইটিস এবং কিছু জিনগত পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কীভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয়

থাইরয়েড ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে ঘাড়ের আলট্রাসনোগ্রাম, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি, এমআরআই, তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার ইমেজিং এবং পিইটি স্ক্যান করা হতে পারে।

টিউমারের আকার ও ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। এতে থাইরয়েড গ্রন্থির আংশিক বা পুরো অংশ এবং প্রয়োজন হলে আশপাশের আক্রান্ত লিম্ফ নোড অপসারণ করা হয়।

এ ছাড়া কিছু ধরনের থাইরয়েড ক্যানসারে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন চিকিৎসা, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি ও হরমোন থেরাপি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই তা ক্যানসার—এমন নয়। ঘাড়ে নতুন গাঁট, দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার