বিজ্ঞাপন
পিত্তথলির ক্যানসার কাদের হয়, কেন এটি দেরিতে ধরা পড়ে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
শরীর আমাদের নানাভাবে সংকেত দেয়, কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ততায় অনেক সময়ই আমরা ছোটোখাটো উপসর্গগুলোকে এড়িয়ে যাই। পেটের ব্যথা বা বদহজমের মতো সাধারণ সমস্যা মনে করে যেগুলোকে আমরা উড়িয়ে দিই, তা অনেক সময় হতে পারে কোনো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। তেমনই একটি নীরব ও জটিল রোগ হলো পিত্তথলির ক্যানসার।
শরীরের ভেতর নীরবে বাসা বাঁধা এই রোগটি এবং এর প্রাথমিক লক্ষণ ও সচেতনতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পিত্তথলি কী, কোথায় থাকে এবং এর কাজ কী?
আমাদের যকৃৎ বা লিভারের ঠিক নিচেই নাশপাতি আকৃতির ছোট্ট একটি অঙ্গ হলো পিত্তথলি বা গলব্লাডার।
এর মূল কাজ হলো ‘পিত্তরস’ বা বাইল সংরক্ষণ করা এবং খাবার হজমে, বিশেষ করে চর্বি জাতীয় খাবার ভাঙতে সাহায্য করা। পিত্তথলির ভেতরের দেওয়াল বা স্তর থেকে সাধারণত এই ক্যানসারের উৎপত্তি হয় এবং ধীরে ধীরে তা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
কেন এটি দেরিতে ধরা পড়ে?
পিত্তথলির ক্যানসারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এর প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। যখন লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে, তখন রোগটি কিছুটা দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাছাড়া এর প্রাথমিক উপসর্গগুলো পিত্তথলিতে পাথর বা সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। অনেক সময় পিত্তথলির পাথর অপারেশনের পরই দুর্ঘটনাক্রমে এই ক্যানসার ধরা পড়ে।
যে লক্ষণগুলো দেখে সতর্ক হবেন
- পেটের ওপরের ডানপাশে মাঝেমধ্যে বা একটানা ব্যথা অনুভব করা।
- ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ করে শরীরের ওজন দ্রুত কমতে থাকা।
- প্রায়ই বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়া।
- ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (যাকে আমরা জন্ডিস বলে জানি)।
- পেটে কোনো চাকা বা ফোলা ভাব অনুভূত হওয়া।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
যে কেউ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে চিকিৎসকদের মতে—
- ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নারীদের মধ্যে এর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
- যাদের দীর্ঘদিনের পিত্তথলিতে পাথর বা পিত্তথলিতে পলিপের সমস্যা রয়েছে।
- পিত্তথলিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন থাকলে।
- এ ছাড়া ধূমপান এবং স্থূলতাও এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, এই ঝুঁকির কারণগুলো থাকলেই যে সবার ক্যানসার হবে, এমনটি নয়। যেমন—পিত্তথলির ক্যানসার হয়েছে এমন বেশিরভাগ মানুষেরই পাথরের ইতিহাস থাকে, কিন্তু পাথর থাকা ১ শতাংশেরও কম মানুষের শেষ পর্যন্ত এই ক্যানসার হয়।
রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা
সাধারণত রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই কিংবা বায়োপসির মাধ্যমে চিকিৎসকরা এই রোগ নিশ্চিত করেন।
রোগের পর্যায় বা স্টেজের ওপর ভিত্তি করে এর চিকিৎসা নির্ভর করে:
অস্ত্রোপচার: একদম প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সার্জারির মাধ্যমে পিত্তথলিটি পুরোপুরি অপসারণ করে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
অন্যান্য থেরাপি: ক্যানসার কিছুটা ছড়িয়ে পড়লে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি কিংবা পিত্তনালীর বাধা দূর করতে বিশেষ পদ্ধতির (যেমন- ইআরসিপি) সাহায্য নেওয়া হয়।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার: উন্নত পর্যায়ে রোগীর শারীরিক কষ্ট ও উপসর্গগুলো উপশম করতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই বিশেষ সেবার সহায়তা নেওয়া হয়।
জীবনযাপন ও শেষ কথা
যেকোনো বড় রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতাই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। পিত্তথলির ক্যানসার একটি বিরল রোগ হলেও এর নীরব প্রকৃতির কারণে এটি চিন্তার কারণ হতে পারে।
আপনার শরীরে যদি দীর্ঘ সময় ধরে পেটের কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা বা ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে নিজে থেকে অনুমান না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজের শরীরের যত্ন নিন এবং সুস্থ থাকুন।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক