বিজ্ঞাপন
অতি পরিচিত সবজি ঢেড়স কেন খাবেন, জেনে নিন উপকারিতা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঢেড়সকে আমরা অনেকেই ভেন্ডি নামে চিনি। এটি অতি পরিচিত একটি সবজি। তবে পরিচিত সবজিটি শুধু স্বাদেই নয় বরং রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ঢেড়স বিভিন্নভাবে রান্না করা হলেও এর পুষ্টিগুণ কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করে এটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে। অতিরিক্ত তেলে ডুবিয়ে ভাজলে সবজিটির পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ঢেড়সের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণভাবে পেতে এটিকে কম তেলে রান্না করতে হবে। ইনগ্রেটিভ লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ লুক কুতিনহো ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করে ঢেড়সের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বলেন।
কেন ঢেড়স খাওয়ার পরামর্শ দেন লুক কুতিনহো
কুতিনহোর মতে, ঢেড়সে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। ফলে রক্তপ্রবাহে গ্লুকোজ প্রবেশের গতি নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়তা করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং অন্ত্রে গ্লুকোজ শোষণ কতটুকু কমাতে ঢেড়সের ভূমিকা কতটুকু তা নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে।
তবে তার ক্যাপশনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ঢেড়স ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ে গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও মানুষের ওপর করা অনেক গবেষণাই এখনও ছোট পরিসরের। তাই ঢেড়সকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে দেখা উচিত, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হিসেবে নয়।
কুতিনহো ঢেড়সে থাকা প্রিবায়োটিক ফাইবারের কথাও উল্লেখ করেছেন। এটি উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর গাট মাইক্রোবায়োম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
* ভিটামিন K: স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধা এবং হাড়ের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে;
* ভিটামিন C: স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে;
* ফোলেট ও বি-ভিটামিন: কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং শক্তি-সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ;
* ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম: শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখা প্রয়োজনীয় খনিজ;
* পলিফেনল: উদ্ভিদজাত কিছু যৌগ, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
কুতিনহো ঢেড়সের সম্ভাব্য প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়েও কথা বলেছেন। তার মতে, ঢেড়সের পুষ্টিগুণের কারণেই তিনি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে খাদ্যতালিকায় এটি রাখেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন, যারা ওয়ারফারিন বা ভিটামিন K সংবেদনশীল অন্য কোনো ওষুধ সেবন করেন, যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, অথবা যারা কোনো নিবিড় চিকিৎসার মধ্যে আছেন তারা খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
ঢেড়স আপনার খাবারের তালিকায় একটি পুষ্টিকর সংযোজন হতে পারে। কিন্তু কোনো একটি সবজি একাই রক্তে শর্করা, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা প্রদাহের সমস্যা সমাধান করতে পারে না। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে।