Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

বারবার মিষ্টি বা লবণাক্ত খেতে ইচ্ছে করা কিসের সংকেত?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

বারবার মিষ্টি বা লবণাক্ত খেতে ইচ্ছে করা কিসের সংকেত?

বিজ্ঞাপন

মাঝেমধ্যে মিষ্টি, কার্বোহাইড্রেট বা লবণাক্ত খাবার খেতে ইচ্ছা হওয়া স্বাভাবিক। তবে কারও যদি নিয়মিত এসব খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার পেছনে শুধু স্বাদ বা অভ্যাস দায়ী নাও হতে পারে। হরমোনের ওঠানামা, রক্তে শর্করার পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

ভারতের মেনোভেডারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সার্টিফায়েড মেনোপজ কোচ তামান্না সিং এ বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাবারের প্রতি এমন আকাঙ্ক্ষার সম্ভাব্য কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জানিয়েছেন।

হরমোনের ওঠানামা

তামান্না সিংয়ের মতে, শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণে ইস্ট্রোজেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে পেরিমেনোপজের সময়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রায় ওঠানামা হলে খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এমনকি আগের তুলনায় দ্রুত তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

রক্তে শর্করার আকস্মিক পতন হলে শরীর দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিকে সবসময় আত্মসংযমের অভাব হিসেবে দেখার কারণ নেই; এটি দ্রুত শক্তির প্রয়োজনের প্রতি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

ঘুম কম হলেও বাড়ে খাবারের আকাঙ্ক্ষা

পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম না হওয়াও মিষ্টি বা লবণাক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিতে পারে। তামান্না সিং জানান, ঘুমের ঘাটতি হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী ঘ্রেলিন ও লেপ্টিন হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন
এর ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্ষুধা লাগতে পারে এবং খাবার খাওয়ার পরও পরিপূর্ণ তৃপ্তি নাও আসতে পারে। তাই ক্লান্ত বা ঘুমবঞ্চিত অবস্থায় মিষ্টি কিংবা লবণাক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানসিক চাপও বড় কারণ

খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মানসিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তামান্না সিংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরের স্বাভাবিক স্ট্রেস প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোর্টিসল হরমোন তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করতে পারে এমন খাবারের দিকে মানুষকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করে।

ফলে শুধু শারীরিক পরিশ্রমের সময়ই নয়, মানসিক চাপ বা ব্যস্ততার মধ্যেও মিষ্টি ও লবণাক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে। কাজের ডেডলাইন, অতিরিক্ত ব্যস্ততা কিংবা পারিবারিক চাপের সময়ও এমন প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যদিও তখন শারীরিক পরিশ্রম খুব বেশি নাও হয়ে থাকে।

খাবারের প্রতি এমন আকাঙ্ক্ষা দেখা দিলে নিয়মিত খাবার খাওয়া বাদ দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এতে দিনের শেষ দিকে ক্ষুধা এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন
রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের মান ও পরিমাণ পরদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া কখন খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করা দরকার। দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে এমনটা হচ্ছে কি না, মানসিক চাপের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে কি না কিংবা মাসিক চক্রের কোনো পর্যায়ের সঙ্গে এটি মিলে যাচ্ছে কি না—এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করলে সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তামান্না সিংয়ের ভাষায়, খাবারের প্রতি এমন তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে চরিত্রের দুর্বলতা, খারাপ অভ্যাস কিংবা ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি শরীরের একটি সংকেত হতে পারে। নিয়মিত ও তীব্রভাবে খাবারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়ার পেছনে শুধু মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার ইচ্ছাই নয়, শরীরের আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল শক্তির প্রয়োজনও কাজ করতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার