বিজ্ঞাপন
পুরুষদের ৩ গোপন রোগ, যা পরে ভয়াবহ আকার নেয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
বিজ্ঞাপন
পুরুষদের শারীরিক কিছু গোপনীয় সমস্যা রয়েছে, যা নিয়ে অনেকেই লজ্জায় বা সংকোচে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। অথচ সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এসব সমস্যা বড় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। নিচে পুরুষদের সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১. অণ্ডকোষের নানাবিধ সমস্যা ও লক্ষণ
অণ্ডকোষের বিভিন্ন সমস্যায় সাধারণত অঙ্গটি ফুলে যাওয়া বা ব্যথা হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
হাইড্রোসিল: অণ্ডকোষের বাইরে পানি জমে ফুলে যাওয়া (আঘাত বা প্রদাহের কারণে হতে পারে)।
হার্নিয়া: হাঁচি, কাশি বা জোরে হাঁটলে পেটের ভেতর থেকে কিছু একটা অণ্ডকোষের দিকে নেমে আসছে বলে মনে হওয়া।
টেস্টিকুলার টরশন: অণ্ডকোষের সাথে সংযোগকারী তারের মতো অংশটি পেঁচিয়ে যাওয়া।
ভেরিকোসিল: অণ্ডকোষের রক্তনালী ফুলে কৃমির মতো হয়ে যাওয়া।
টেস্টিকুলার সিস্ট: মনে হওয়া যে মূল অণ্ডকোষের সাথে নতুন কোনো অংশ গজিয়েছে।
বিশেষ সতর্কবার্তা: অণ্ডকোষের স্পর্শানুভূতি বা স্বাভাবিক অনুভূতি হারিয়ে গেলে এবং আস্তে আস্তে তা ফুলে উঠলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ এটি ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
২. গাইনোকোমেশিয়া (পুরুষদের স্তন বৃদ্ধি)
কিশোর বয়স বা বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে অনেক সময় ছেলেদের বুক মেয়েদের স্তনের মতো কিছুটা বড় হয়ে যায়।
সাধারণত এটি আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়।
তবে এটি তিন সেন্টিমিটারের বেশি বড় হলে হরমোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
বয়স বাড়ার পর অস্বস্তি লাগলে ছোট একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি অপসারণ করা সম্ভব। এটি কোনো ক্যান্সার বা জটিল রোগ নয়।
৩. যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা (ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন)
ইরেক্টাইল ডিসফাংশন: যৌন মিলনের সময় পুরুষাঙ্গ শক্ত না হওয়া।
প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন: মিলনের শুরুতেই খুব দ্রুত বীর্যপাত হওয়া।
কারণ: সাময়িক ক্লান্তি, অতিরিক্ত উদ্বেগ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা হরমোনজনিত সমস্যা এর পেছনে থাকতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এসব সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময় সম্ভব।
সমস্যা লুকিয়ে রাখার প্রবণতা
সমাজ পুরুষদের সবসময় শক্তিশালী দেখতে অভ্যস্ত। ফলে এসব সমস্যাকে অনেকে তাদের পুরুষত্বের ওপর আঘাত বা দুর্বলতা হিসেবে ধরে নেন। সমাজের ট্রোল বা বুলিংয়ের ভয়ে তারা বিষয়টি চেপে যান।
সমাধান: মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী বা স্ত্রী যদি বিদ্রূপ না করে সহানুভূতিশীল ও মানসিকভাবে সমর্থন জোগান, তবে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সাহস পান।
সঠিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া
যেকোনো শারীরিক সমস্যায় সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত:
ইউরোলজিস্ট: অণ্ডকোষের সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন ও হার্নিয়া।
সার্জিক্যাল স্পেশালিস্ট: অণ্ডকোষ বা হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট (হরমোন বিশেষজ্ঞ): গাইনোকোমেশিয়া বা হরমোনজনিত সমস্যার জন্য।
কোলন অ্যান্ড রেকটাল সার্জন: ফিস্টুলার মতো সমস্যার জন্য।
দেশের যেকোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পাওয়া যায়। লজ্জা বা সংকোচ না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।