বিজ্ঞাপন
ডেঙ্গু জ্বর সতর্কতায় যে ৫ বিষয় জানতেই হবে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
বিজ্ঞাপন
ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভয়ের কিছু নেই, যদি আপনি সময়মতো সচেতন হন এবং সঠিক পদক্ষেপ নেন। সামান্য সতর্কতা আর সঠিক পরিচর্যাই এই রোগ থেকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে পারে।
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণগুলো কী?
তীব্র জ্বর: সাধারণত ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর থাকে। জ্বর একটানা থাকতে পারে অথবা ঘাম দিয়ে কমে গিয়ে আবার আসতে পারে।
শারীরিক ব্যথা: সারা শরীরে ব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং চোখের পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব হওয়া।
র্যাশ: চামড়ায় লালচে রঙের ছোপ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া (তবে র্যাশ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে)।
জ্বর হলে প্রাথমিক করণীয়
অবহেলা করবেন না: ঋতু পরিবর্তনের সময় হঠাৎ জ্বর আসলে তাকে সাধারণ জ্বর ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। জ্বরের সাথে সর্দি-কাশি না থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পূর্ণ বিশ্রাম: শরীর দুর্বল থাকে বিধায় অতিরিক্তড়ো বা পরিশ্রমের কাজ থেকে দূরে থাকুন। বিছানায় থেকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিন।
তরল খাবার গ্রহণ: শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খান। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন এক্ষেত্রে দারুণ উপকারী।
ওষুধ ব্যবহারের সতর্কতা
প্যারাসিটামল: জ্বর ও ব্যথার জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেতে পারেন। সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে লিভার, হার্ট বা কিডনির জটিলতা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
অ্যাসপিরিন বর্জন করুন: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ভুল করেও অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক নয়: রক্তে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা কমে যাওয়া নিয়ে নিজে নিজে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। এই বিষয়টি চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।
কখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন?
ডেঙ্গুর তীব্রতা ভেদে পরিস্থিতি তিন ভাগে বিভক্ত:
ক্যাটাগরি 'এ': এ ধরনের রোগীদের শুধু জ্বর থাকে এবং তারা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তির কোনো প্রয়োজন নেই, ঘরে থেকেই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
ক্যাটাগরি 'বি': রোগীর শরীরে যদি অতিরিক্ত পেটে ব্যথা, ঘন ঘন বমি হওয়া, কিংবা দুই দিন জ্বর থাকার পর শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত।
ক্যাটাগরি 'সি': এটি সবচেয়ে জটিল বা ডেঙ্গুর গুরুতর পর্যায়, যেখানে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং আইসিইউ-এর প্রয়োজন হতে পারে।
এডিস মশা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়
মশার কামড়ের সময়: এডিস মশা সাধারণত অন্ধকার পছন্দ করে না এবং অন্ধকারে কামড়ায় না। সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার ঠিক আগের সময়ে এদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি থাকে।
পরিষ্কার পানি জমতে না দেওয়া: এডিস মশা স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। বাড়ির ছাদ বা বারান্দার ফুলের টব, ফ্রিজ বা এসির নিচে, অব্যবহৃত পাত্র কিংবা নির্মাণাধীন ভবনে যেন তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখুন।