বিজ্ঞাপন
রাত ৮টার পর খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে? আসল তথ্য জানালেন পুষ্টিবিদরা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাত ৮টার পর খাবার খেলেই কি সত্যি সত্যি শরীরের ওজন বেড়ে যায়? দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী রাত আটটা বাজার পর খাবার গ্রহণ করলে শরীর নাকি তা সরাসরি চর্বিতে রূপান্তর করা শুরু করে।
তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অতটা সরল নয়। কারণ মানুষের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া বা কমার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের চেয়ে পুরো দিনের সার্বিক ক্যালরি গ্রহণই প্রধান ভূমিকা পালন করে।
ঘড়ির সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোট ক্যালরি
নোইডার ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ক্লিনিকাল নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ড. করুণা চতুর্বেদী জানান, ওজন বাড়ার সঙ্গে ঘড়ির সময়ের সম্পর্ক খুবই সামান্য। শরীর হুট করে রাত ৮টার পর চর্বি জমাতে শুরু করে না। মূল বিষয় হচ্ছে একজন ব্যক্তি সারাদিনে তার চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করছেন কি না।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি রাত ৯টায় নৈশভোজ সারেন কিন্তু তার সারাদিনের ক্যালরি সীমা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে তার ওজন লাফিয়ে বাড়বে না। অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করেও যদি কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করেন, তবে তার ওজন বাড়বে।
রাত ৮টার নিয়ম নিয়ে কেন এতো আলোচনা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি ঘড়ির সময়ে নয়, বরং রাতের বেলার মানসিক ও অভ্যাসের জায়গায়। দিনের কাজ শেষে রাতে মানুষ সাধারণত ক্লান্ত, মানসিক চাপ বা একঘেয়েমি কাটাতে গিয়ে অজান্তেই অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলে। রাতে টিভি দেখা বা অবসর কাটানোর সময় বিস্কুট, মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত স্ন্যাকস খাওয়ার ঝোঁক বাড়ে।
ফরিদাবাদের যথার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান আস্থা শর্মা বলেন, রাত ৮টার পর খাবার খেলেই ওজন বাড়বে এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘বায়োলজিক্যাল কাট-অফ’ বা জৈবিক নিয়ম নেই। তবে রাতে ভুল খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে বলেই এটি সমস্যার সৃষ্টি করে।
সারকাডিয়ান রিদম বা জৈব ঘড়ির প্রভাব
যদিও রাত ৮টা কোনো অলৌকিক ডেডলাইন নয়, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন সময়ের কিছুটা প্রভাব নিশ্চয়ই রয়েছে। মানুষের শরীর চলে ‘সারকাডিয়ান রিদম’ বা শরীরের ভেতরের জৈব ঘড়ির ওপর ভিত্তি করে। যা ঘুম, হরমোন নিঃসরণ ও হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
দেরিতে বা ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে তা পরিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং ঘুমের মান খারাপ করতে পারে। আর ঘুম ভালো না হলে পরবর্তী দিনে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক খাদ্য নির্বাচনের ক্ষমতা ব্যাহত হয়।
প্রধান বিবেচ্য বিষয়: প্লেটে কী আছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের চেয়ে খাবারের পরিমাণ, খাবারের ধরন ও গুণমান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতের শিফটে কাজ করার কারণে যদি কেউ রাত ৮:৪৫ মিনিটে পরিমাণমতো ডাল, সবজি ও রুটি খান তবে তা সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা ভাজাপোড়া খাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো-
রাত ৮টার নিয়ম নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস সুষম রাখুন। রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা ও পুষ্টিকর করার চেষ্টা করুন। খিদে ছাড়া শুধুমাত্র অভ্যাসবশত বা অলস সময় কাটাতে স্ন্যাকস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস করুন যাতে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।