বিজ্ঞাপন
শুধু খাবার নয়, আরও যেসব কারণে শরীরে জমছে মেদ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
ওজন বাড়তে থাকলে সব দোষ গিয়ে পড়ে খাবারের ওপরেই। দ্রুত ওজন বাড়লে— প্রথমেই দায়ী করা হয় ভুল খাদ্যাভ্যাসকে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকেই মেদ জমার জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে। কিন্তু সব দোষ কি শুধু খাবারে? অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস নয়, পরিমিত খেয়েও ওজন বেড়ে থাকে।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ সোনিয়া নারাং জানিয়েছেন, বেশি খেলে মেদ জমবে নিঃসন্দেহে। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাসই নয়, ওজন বৃদ্ধির নেপথ্যে আরও চার কারণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত দিনভর বসে কাজ। দ্বিতীয়ত মানসিক চাপ। তৃতীয়ত ঘুমের অভাব এবং চতুর্থত পর্যাপ্ত পানি না করাও ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ এই চার বিষয়ই বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এ পুষ্টিবিদ আরও বলেন, ভুল খাবার বাছাই, বেশি খাওয়ার অভ্যাস সরাসরি ওজন বাড়িয়ে দেয়। তবে ভুল খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যদি একটানা বসে কাজ ও ঘুমের অভাবও যুক্ত হয়, তবে মেদ জমতে পারে আরও দ্রুত।
পুষ্টিবিদ সোনিয়া নারাং বলেন, খাওয়াদাওয়া, শারীরচর্চার পরও কারও কারও শরীরে মেদ জমতে থাকে। তার পেছনে ক্রমাগত মানসিক চাপ যেমন কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনই দায়ী হতে পারে দিনের পর দিন ঘুমের ঘাটতি। তিনি বলেন, কম ঘুমে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমতে থাকলে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি— দুইয়ের প্রবণতাই বাড়তে পারে। এ ছাড়া হরমোনের হেরফেরও ওজন বৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ থাকতে পারে।
এ বিষয়ে আরেক পুষ্টিবিদ শালিনী ব্লিস মনে করেন, খাওয়া মানে শুধু ক্যালোরির জোগান দেওয়া নয়, বরং খাবারে থাকা পুষ্টিগুণ শরীর সুস্থ রাখার জন্য জরুরি। সেই কারণে ওজন কমানো মানে খাওয়া ছেড়ে দেওয়া নয়। ওজন বশে রাখতে হলে নিয়ম করে এবং পুষ্টির কথা মাথায় রেখে খেতে হবে। পরিমিত আহার এবং পুষ্টির সমন্বয়ই ওজন কমানো বা মেদ গলানোর মূল কথা।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিপাকীয় স্বাস্থ্য ঠিক রাখা জরুরি বলেও মনে করেন এ পুষ্টিবিদ। তিনি বলেন, আর তার জন্যই দরকার শরীরচর্চা, ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা। একটানা বসে কাজ না করে, মাঝেমধ্যে হাঁটাহাঁটিও খুব জরুরি। আর সব শর্ত মানতে পারলেই লক্ষ্যলাভ সম্ভব। ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, শারীরচর্চা — একসঙ্গে নিয়ম মেনে করতে পারলে তবে জমবেই না মেদ। বশে রাখা সহজ হবে আপনার ওজনও।