বিজ্ঞাপন
রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙে? জানুন কারণ ও প্রতিকার
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬ এএম
বিজ্ঞাপন
রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাবের বেগে জেগে উঠছেন? অনেকেই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ মনে করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু নিয়মিত এমন হলে শুধু বেশি পানি পান করাই এর কারণ নয়।
ডায়াবেটিস, মূত্রথলি, কিডনি কিংবা প্রোস্টেটের সমস্যাসহ নানা শারীরিক কারণে রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘুমের মধ্যে প্রস্রাবের জন্য বারবার জেগে ওঠার সমস্যাকে বলা হয় ‘নকচুরিয়া’। বয়স বাড়ার সঙ্গে নকচুরিয়ার প্রবণতা বাড়লেও এটি যেকোনো বয়সে দেখা দিতে পারে।
নকচুরিয়ার কারণ কী?
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি বা অন্যান্য তরল পান করলে রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে সন্ধ্যার পর চা-কফি কিংবা অ্যালকোহল পান করলেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধও রাতে বেশি প্রস্রাবের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, কিডনির বিভিন্ন সমস্যা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণেও রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজের পর নারীদের মধ্যেও নকচুরিয়া দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের অসুস্থতা বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গেও এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন?
রাতে কতবার প্রস্রাব হলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলা হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। তবে নিয়মিত একাধিকবার ঘুম ভেঙে গেলে এবং এর কারণে ঘুমের ব্যাঘাত বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সমস্যা কমাতে কী করা যেতে পারে?
কিছু জীবনযাপনের পরিবর্তন নকচুরিয়ার সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে অতিরিক্ত তরল পান না করা, দিনের বেলায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করা এবং সন্ধ্যার পর চা-কফি ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।
তবে সমস্যা কমানোর জন্য পানি একেবারে কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কোনো ওষুধ শুরু করার পর থেকে রাতে বারবার প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমস্যা নিয়মিত হলে শুধু পানি কমিয়ে দিয়ে তা উপেক্ষা না করা। কারণ নকচুরিয়ার চিকিৎসা মূলত এর অন্তর্নিহিত কারণের ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, প্রস্রাবের পরীক্ষা বা অন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।