Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

আপনার সন্তান কি একটু বেশিই চঞ্চল?

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

আপনার সন্তান কি একটু বেশিই চঞ্চল?

বিজ্ঞাপন

শিশুরা ঘর আলো করে ​রাখে। সারাদিন ছুটাছুটি, হৈ-হুল্লোড় আর একের পর এক বায়না ধরা এগুলো শিশুদের চেনা অভ্যাস। অর্থাৎ বাচ্চারা ছুটাছুটি করবেই; কিন্তু তার মাত্রা যদি বেশি হয় কিংবা চঞ্চলতার মাত্রা যদি হয় অতিচঞ্চল তখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমান সময়ের শিশুরা এমনিতেই বেশি চঞ্চল। খুব কম সময়ে শিখতে পারে অনেক কিছু। বেশিরভাগ বাবা-মায়েরা শিশুকে কাছে রেখে মোবাইল, ল্যাপটপ, গ্যাজেট ব্যবহার করেন, সেখান থেকেই অধিকাংশ শিশুরা সেগুলো শিখে ফেলে। তথ্য প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে শিশুরা অতি দ্রুত সবকিছু আয়ত্ত করে ফেলে। এর ফলে দেখা যায়, শিশুরা কথা বলা শুরুর আগেই গ্যাজেট ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে গেল। এসব কারণেই সাধারণ চঞ্চলতা-অতিচঞ্চলতায় গিয়ে ঠেকেছে।

আমরা সাধারণত যে শিশুটি চঞ্চল তাকে হাইপারঅ্যাকটিভ বা অতিচঞ্চল বলি। শিশুদের অতিচঞ্চলতা আশপাশের লোকজন বিশেষ করে শিক্ষক, বাবা-মায়ের জন্য মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। হীনমন্যবোধ করেন। অতিচঞ্চলতার কারণে শিশুরা দুর্ঘটনার শিকারও হয়। শিশু যখন হাইপারঅ্যাকটিভ থাকে তখন বাবা-মা বা কাছের মানুষগুলোকে সাবধান থাকতে হবে।

যে সব শিশুরা অতিচঞ্চলতার কারণে নিজেকে স্থির রাখতে পারে না এবং কোনো বিষয়ে সহজে মনোযোগ দিতে পারে না সেসব শিশুরা নানা সমস্যায় পড়ে। তাই অতি চঞ্চলতা লক্ষ্য করলে প্রথম কাজ হবে চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। শিশুর কার্যক্রম, অতিচঞ্চলতার লক্ষণ চিকিৎসককে খুলে বলা উচিৎ।

অভিভাবকরা যা করতে পারেন-

শেখাতে হবে

শিশুকে সৃজনশীল কিছু শেখানোর পাশাপাশি কীভাবে নিজের অনিয়ন্ত্রিত জীবনকে সুন্দর করে তোলা যায়, তা-ও শেখাতে হবে। ইয়োগা বা মেডিটেশন করার মাধ্যমে কীভাবে নিজের মনকে শান্ত রাখা যায়, তা-ও শিশুকে শেখানোর দায়িত্ব বাবা-মায়েরই। বাবা-মায়েরা যদি যথাযথভাবে তার অতিচঞ্চল শিশুকে একটু বেশি সময় নিয়ে যত্ন করেন এবং খেয়াল দেন তাহলে চঞ্চলতা কমে যাবে।

মাঝে মাঝে নিয়ম করে ​ঘুরতে যান

শিশুরা ঘরের মধ্যে নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। এর মধ্যে কিছু সময় বাইরে হাঁটা বা খেলাধুলা, আপনার সন্তানের মনকে শান্ত রাখতে পারে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা আপনার শিশুকে অতিচঞ্চলতা থেকে দূরে রাখবে।

চঞ্চল শিশুদের কৌশল করে ​শান্ত রাখুন

আপনার বাসায় একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন যে জায়গায় বা শিশুর আশপাশটা চুপচাপ থাকবে। তার চারপাশে কিছু বই রাখুন। পার্সোনাল স্পেস পেলে শিশুরা বই পড়তে পারে, ছবির বই দেখতে পারে বা গাইতে পারে।

গান ও আবৃত্তি শোনাতে পারেন

মিউজিক বা হালকা গান শিশুর মনকে শান্ত করে তুলতে পারে। তাই তাকে নতুন নতুন গান শুনতে শেখান। তাকে দেশাত্মবোধক গান, ছড়া গান শুনতে শেখান। এছাড়াও আবৃত্তি শোনাতে পারেন। শিশুর হোমওয়ার্কের সময় নয়, তবে রাতের খাবারের সময় বা ঘুমানোর আগে আবৃত্তি কিংবা হালকা কিন্তু বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক মিউজিক চালিয়ে রাখুন।

​খাবারের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন

শিশুদের প্রতি সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন। ক্ষুধা ও ব্লাড সুগারের ওঠানামা করলে শিশু অতিচঞ্চল হয়ে ওঠে। প্রতিদিন একই রকম খাবার না দিয়ে কিছু ভিন্ন ভিন্ন পদ তৈরি করে দিন। শিশুরা ভিন্ন ভিন্ন পদের খাবার খেতে ভালোবাসে।

রুটিন করে দিন কাজের

আপনার অতি চঞ্চল শিশুর জন্য রুটিন করে দিন। প্রয়োজন হলে তাকে তার সারাদিনের, যারা স্কুলে যায়, এমনকি ছুটির দিনগুলোর জন্যও রুটিন প্রস্তুত করতে পারেন। তাতে লাভ হলো সে যখন জানবে তার কখন কী করতে হবে, তখন সে অতিচঞ্চলতা থেকে দূরে থাকবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার