বিজ্ঞাপন
প্রতি রাতে বারবার প্রস্রাব? হতে পারে যেসব রোগের ইঙ্গিত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? সমস্যা এড়াতে ঘুমের আগে কম পানি পান করছেন, তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খাচ্ছেন, বিকেলের পর চা-কফিও এড়িয়ে চলছেন—তারপরও কমছে না এই ভোগান্তি? তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।
রাতে ঘুম থেকে উঠে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নকচুরিয়া বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে চল্লিশের পর থেকে অনেক পুরুষ এ সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে শুধু বয়সই নয়, শরীরের নানা সমস্যার কারণেও রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
কেন হয় রাতে বারবার প্রস্রাব?
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের পেছনে থাকতে পারে কিডনি, মূত্রথলি বা প্রোস্টেটের সমস্যা। কিডনিতে পাথর থাকলেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং শরীরে থাইরয়েড ও কর্টিসল হরমোনের তারতম্যের কারণেও রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বয়স্কদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। আবার মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পরও অনেক নারীর মধ্যে এ সমস্যা দেখা দেয়।
কিছু ক্ষেত্রে মূত্রথলির গুরুতর সমস্যার কারণেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রাতে কতবার প্রস্রাব হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। বয়স, ঘুমের আগে কতটা পানি পান করেছেন, সন্ধ্যার পর চা-কফি খেয়েছেন কি না—এসব বিষয়ের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
তবে প্রতিদিন নিয়মিত রাতে দুই বা তার বেশি বার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
সমস্যা কমাতে যা করবেন
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান না করাই ভালো। রাতের খাবারও তুলনামূলক আগে খেয়ে নেওয়া যেতে পারে।
বিকেলের পর চা-কফি এড়িয়ে চলুন এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। সমস্যা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্রাবের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
ডায়াবেটিস বা কিডনির কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, রাতে মাঝে মধ্যে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা সব সময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে প্রতিদিন একই সমস্যা চলতে থাকলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।