Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

চা-কফি পান করলেই টয়লেটের বেগ আসে? জানুন কারণ

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

চা-কফি পান করলেই টয়লেটের বেগ আসে? জানুন কারণ

বিজ্ঞাপন

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বা কফি পান করার পরই অনেকের টয়লেটে যাওয়ার তাগিদ অনুভূত হয়। কারও ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত অভ্যাসের মতো, আবার কেউ বাইরে বের হওয়ার আগে চা-কফি খেতে দ্বিধায় থাকেন। তবে এই প্রবণতা শুধু মানসিক অভ্যাসের কারণে নয়; চা-কফির কিছু উপাদান শরীরের অন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে কফি অনেকের বৃহদান্ত্রের নড়াচড়া বাড়িয়ে দ্রুত মলত্যাগের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

ক্যাফেইন কীভাবে কাজ করে?

চা ও কফির অন্যতম প্রধান উপাদান ক্যাফেইন শরীরকে উদ্দীপিত করে। এটি অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কফি পান করার পর কিছু মানুষের দ্রুত টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন গবেষণাতেও কফি পান ও অন্ত্রের কার্যক্রমের মধ্যে এমন সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে চা-কফি খেলেই শরীরে উল্লেখযোগ্য পানিশূন্যতা তৈরি হয়—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ক্যাফেইনের সামান্য মূত্রবর্ধক প্রভাব থাকলেও পরিমিত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় শরীরের দৈনিক তরলের চাহিদার অংশ হতে পারে।

আরও পড়ুন
কফি কি অন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর?

এ বিষয়ে সরাসরি ভালো বা খারাপ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বড় একটি গবেষণায় কফি পান এবং নির্দিষ্ট একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে কফি সবার জন্য উপকারী বা কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে। কফির প্রভাব ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

আরও পড়ুন
দুধ-চিনি মেশালে প্রভাব কী?

চা বা কফিতে বেশি চিনি, সিরাপ কিংবা ক্রিম যোগ করলে পানীয়টির ক্যালরি ও চিনির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত চা-কফি পান করলে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি ক্রিম এড়িয়ে চলা ভালো।

অন্যদিকে দুধ সবার ক্ষেত্রে মলত্যাগের চাপ বাড়ায় না। তবে যাদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সহ্য হয় না, তাদের ক্ষেত্রে এসব উপাদান পেটের অস্বস্তি কিংবা মলত্যাগের সমস্যা বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন
বাইরে যাওয়ার আগে চা-কফি কি এড়িয়ে চলবেন?

যাদের চা বা কফি পান করার পর দ্রুত টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে পানীয় গ্রহণের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ভ্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ মিটিং কিংবা এমন কোনো অনুষ্ঠানের আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করাই সুবিধাজনক হতে পারে।

সবচেয়ে ভালো হলো নিজের শরীর চা-কফির প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বুঝে পানীয়টির পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করা।

দিনে কতটা ক্যাফেইন নিরাপদ?

মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে মোট ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত গুরুতর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা সবার এক রকম নয়।

আরও পড়ুন
অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, চা বা কফি পান করার পর টয়লেটের চাপ অনুভব করা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। ক্যাফেইন অন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় করতে পারে বলেই অনেকের ক্ষেত্রে দ্রুত মলত্যাগের প্রয়োজন হয়। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি বা কিছু দুগ্ধজাত উপাদান এই প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে চা-কফির পরিমাণ ও সময় ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার