বিজ্ঞাপন
গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
বিজ্ঞাপন
গর্ভধারণের পর প্রথম তিন মাস মা ও অনাগত শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় শিশুর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো গঠিত হতে শুরু করে। একই সঙ্গে মায়ের শরীরেও নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, স্তনে ব্যথা ও মেজাজের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ এ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে মায়ের পুষ্টি, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের চাহিদা কিছুটা ভিন্ন হয়। তাই প্রথম ত্রৈমাসিকে কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।
প্রসবপূর্ব চিকিৎসা শুরু করুন
গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রথম সাক্ষাতে আপনার আগে থেকে থাকা কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ বা অন্যান্য বিষয় চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো নির্ধারিত ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করাও ঠিক নয়।
ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করুন
গর্ভাবস্থার শুরুতে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ শিশুর সঠিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণভাবে প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে গর্ভধারণের আগে থেকে শুরু করে প্রথম ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত। এটি স্পাইনা বাইফিডার মতো নিউরাল টিউবের ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে কিছু নারীর ক্ষেত্রে বেশি মাত্রার ফলিক অ্যাসিড প্রয়োজন হতে পারে। তাই ডোজ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খান
প্রথম ত্রৈমাসিকে বমি বমি ভাব বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বা উপযুক্ত বিকল্প এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন।
নিয়মিত সক্রিয় থাকুন
গর্ভাবস্থায় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা সাধারণত উপকারী। স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে হাঁটা, সাঁতার বা গর্ভাবস্থার উপযোগী হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে গর্ভধারণের আগে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকলে হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে শরীরকে অভ্যস্ত করা উচিত।
মদ ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন: গর্ভাবস্থায় মদ, ধূমপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।
নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না: সাধারণ ব্যথানাশক, ভেষজ ওষুধ বা বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্টও গর্ভাবস্থায় সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত নয়।
অতিরিক্ত গরম ও ক্লান্তি এড়িয়ে চলুন: ব্যায়ামের সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং শরীর ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নিন বা ব্যায়ামের গতি কমিয়ে দিন।
কঠোর ডায়েট করবেন না: গর্ভাবস্থা ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট বা অপ্রয়োজনীয় খাদ্যবিধিনিষেধ অনুসরণের সময় নয়। বরং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
প্রথম ত্রৈমাসিকে মায়ের যত্নের পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।