Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

উরু মোটা হলে বাড়ে আয়ু, যা বলছে গবেষণা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

উরু মোটা হলে বাড়ে আয়ু, যা বলছে গবেষণা

বিজ্ঞাপন

অনেকেই উরু মোটা বা পেশিবহুল হওয়ায় অস্বস্তি বোধ করেন। বিশেষ করে সরু পা ও ছিপছিপে শরীরকে সৌন্দর্যের আদর্শ হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে নিজের শরীর নিয়েও অনেকে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। কিন্তু গবেষণার কিছু ফলাফল বলছে, উরুর আকারের চেয়ে সেখানে থাকা পেশিশক্তি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি শক্তিশালী উরু ও দীর্ঘায়ুর মধ্যেও সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

উরুর পরিধি ও মৃত্যুঝুঁকি

২০২০ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উরুর পরিধি প্রতি ৫ সেন্টিমিটার বাড়ার সঙ্গে যেকোনো কারণে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ কমার সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সম্পর্কের পেছনে উরুর পেশির পরিমাণ ও শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ উরু তুলনামূলক পূর্ণ হওয়ার কারণ যদি বেশি পেশি হয়, তাহলে সেটি সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। উরুর বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যে পেশির সঙ্গে স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর সম্পর্কের পক্ষে যথেষ্ট গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ রয়েছে।

উরুর পেশি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উরুর পেশি শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশিগোষ্ঠী। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, দৌড়ানো কিংবা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানোর মতো দৈনন্দিন কাজেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষ করে উরুর সামনের দিকের কোয়াড্রিসেপস পেশি বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী পেশি থাকলে বয়স্ক বয়সে দুর্বলতা ও চলাফেরার সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
পেশিশক্তি বজায় রাখা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ও পেশি গঠনের ফলে বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখার সুবিধা পাওয়া যায়।

শক্তিশালী পায়ের সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্কও আছে

শুধু শরীরের নড়াচড়া নয়, পায়ের শক্তির সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতারও সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। ৩০০-এর বেশি যমজ নারীর ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাদের পায়ের শক্তি বেশি ছিল, ১০ বছর পর তাদের চিন্তা ও বোঝার সক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের কিছু গঠন তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গবেষকেরা শারীরিক সক্রিয়তার বিভিন্ন প্রভাবের কথা বলেন। সক্রিয় পেশি শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক সংকেত তৈরি করতে পারে, যা প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আরেকটি গবেষণায় অত্যন্ত সক্রিয় বয়স্ক সাইক্লিস্টদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল তরুণদের মতো, কিছু ক্ষেত্রে যা ২০-এর কোঠার মানুষের সঙ্গে মিলে যায়।

উরুর চর্বির কি কোনো উপকার আছে?

বেশি পেশি থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে; ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে। ২০০৯ সালে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, চিকন উরুর সঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হৃদরোগ ও মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। শক্তিশালী উরু বয়স্কদের দুর্বলতা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করতে পারে এবং তাদের স্বনির্ভরতা বাড়ায়।

অন্যদিকে উরু ও নিতম্বের আশপাশে জমা চর্বি কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হতে পারে। গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে শরীরের নিচের অংশের চর্বি অতিরিক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার বিপাকের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বয়স বাড়লে কেন পেশির যত্ন জরুরি?

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে সারকোপেনিয়া নামের একটি অবস্থার কারণে পেশির ভর ও শক্তি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এতে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা চেয়ার থেকে ওঠার মতো সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

পেশির দুর্বলতার পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্বও কমতে পারে। ফলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

উরু শক্তিশালী করবেন যেভাবে

উরু চিকন না মোটা-সেটির বদলে পেশিশক্তি বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং কার্যকর হতে পারে। স্কোয়াট, লাঞ্জ, স্টেপ-আপের মতো ব্যায়াম উরুর বিভিন্ন পেশি সক্রিয় করতে সাহায্য করে।

শুরুতেই ভারী ওজন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী সহজ ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো ভালো। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পেশিশক্তির ব্যায়াম করা যেতে পারে।

রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের আরেকটি সুবিধা হলো এটি হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ভর ও শক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতাকে সারকোপেনিয়া বলা হয়। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তাই আয়নায় নিজের উরুর আকার দেখে হতাশ হওয়ার বদলে সেগুলো কতটা শক্তিশালী এবং দৈনন্দিন কাজে কতটা সক্ষম, সেদিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার